বাংলাতে কথা বলি, বাংলা পড়ি, তাই বাংলাতে লিখব। যা মনে আসে। চেষ্টা করব আপনাদের আনন্দ দিতে।পড়ে নীচে কমেন্ট দিতে ভুল করবেন না প্লীজ।
বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৪
আজকের কথা কি ভাবে শুরু করবো তাই ভাবছি। লোকের কাছে শুনেছি মোবাইলে পটাপট বোতাম টিপে প্রেমপত্র লেখা যায় আর এ তো একটা ছোটট লেখা। আজ এখানে থামছি।
বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৪
বাংলার ইতিহাস (৪র্থ খন্ড)
কিন্তু
বৃটিশদের এক নবাবের নামের দরকার ছিল কেননা তারা তখন আইনত ব্যবসাদার হিসাবেই ছিল।
মীরকাশিমের পরে কে মসনদে বসবে তা ঠিক করতে কোম্পানি এক সভা ডাকে সেখানে দাবীদার
থাকে দুজন, এক মীরণের শিশুপুত্র আর দ্বিতীয় মীরকাশিমের দাসী পুত্র। বৃটিশেরা মাত্র
পাঁচ মিনিটের বৈঠকের মধ্যে স্থির করে নেয় যে মীরকাশিমের দাসীপুত্র সুজা কে মসনদে
বসান হবে। আর তাঁর কাজ কর্ম দেখাশুনা করার জন্য কোম্পানির তরফ থেকে আসে মহম্মদ
রেজা। মহম্মদ রেজা এই সময় মহারাজ নন্দকুমারের থেকে বৃটিশদের কাছে বেশী প্রিয়পাত্র ছিলেন।
বার্ষিক বেতন মহম্মদ রেজার জন্য নির্ধারিত হয় সোয়া লক্ষ পাউন্ড। এটুকু মনে রাখলেই
হবে যে মুঘল সম্রাটকে বার্ষিক সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড দেওয়া হত পেন্সন হিসাবে।
এখানে
একটা কথা মনে রাখা দরকার যে যদিও আমরা ঔপনিবেশিক বৃটিশ শাসনের কথা বলি, কিন্তু সেই
সময় ইউরোপ থেকে বিভিন্ন দেশের বণিকদল এসে তাদের ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে তাদের কুঠি
স্থাপনা করে এবং পরে সেই কুঠিগুলি তাদের রাজ্যের কেন্দ্র হিসাবে কাজ করতে থাকে।
ফরাসীরা এসে তাদের কেন্দ্র বানায় চন্দননগরে, ওলন্দাজেরা বানায় চুচুড়াতে এবং
পর্তুগীজেরা বানায় হুগলীতে। এদের মধ্যে চুচুড়া ১৭৯৫ খৃষ্টাব্দে ফ্রান্সের আক্রমণ
থেকে বাঁচাতে বৃটিশেরা অধিকার করে ।
হুগলিতে
১৫৮০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ পর্তুগীজ ব্যবসায়ীরা আসেন। পর্তুগীজদের ব্যবসার সাথে আর এক
প্রধান কাজ ছিল ধর্মান্তকরন। সেই সময় তাদের এই ধর্মান্তকরন এত বেশী কার্যকরী ছিল
যে এটা জানা যায় যে সারা বাংলাতে যখন প্রায় ২০ হাজারের মত খৃষ্টান ছিলেন সেখানে
শুধুমাত্র হুগলীতেই প্রায় দশ হাজারের মতন খৃষ্টধর্মালম্বী ছিলেন। ব্যান্ডেলের
বিখ্যাত চার্চ পর্তুগীজদের তৈরী। ব্যান্ডেল পরে বৃটিশদের অধিকারে চলে আসে। খালি ভারতের
স্বাধীনতা পর্যন্ত চন্দননগরে ফরাসি শাসন ছিল এবং বিপ্লবীরা এই এলাকাতে এসে
আত্মগোপন করতেন।
রবার্ট
ক্লাইভ ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে তার দ্বিতীয় বারে ভারতে আগমনের পরে অযোদ্ধার নবাব এবং মুঘল
বাদশার সাথে এলাহাবাদে এক সন্ধি করেন যাতে বাংলা বিহার এবং ওড়িষ্যার প্রকৃত
শাসনভার ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায়, বাদশারা খালি এক পেন্সনের মত টাকা
কোম্পানির কাছ থেকে পেতে শুরু করেন।
এই
সময় বাংলা দেশে জমিদারদের প্রত্যেক বছর এক নীলামের মাধ্যমে বন্দোবস্ত দেওয়া হত।
নাম ছিল পুনিয়া। এই প্রথাতে যে জমিদার সব চেয়ে বেশী দাম বলার ক্ষমতা রাখত সেই
জমিতে চাষ করার অধিকার পেত। তার অবশ্যম্ভাবী ফল ছিল গরীব চাষীকে প্রায় বিনা
মজুরীতে কাজ করতে হত। দেনার দায়ে কৃষক ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে কি আত্মহত্যা
করেছে এই রকম অবস্থা প্রচুর ছিল।
১৭৭০
খৃষ্টাব্দে বাংলাদেশে অনাবৃষ্টির ফলে কোন রকম চাষ আবাদ হয়না। গ্রামের লোকে না খেতে
পেয়ে শহরের দিকে আসতে শুরু করে। অনাহারে লোকের মৃত্যু শুরু হয়ে যায়। এটা মনে করা
হয় যে গ্রামগঞ্জে প্রায় আদ্ধেক লোকে অনাহারে মারা গেছিল। এক ইতিহাস লেখকের মতে
কলকাতা শহরে একশ লোক লাগানো হয়েছিল মৃতদেহ তুলে গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দেবার জন্য। এটা
অতিশয়োক্তি হলেও এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যা প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল। এটাই
সেই বিখ্যাত ৭৬ এর মন্বন্তর যাতে অনুমান করা হয় প্রায় এক কোটির মত লোকে মারা
গিয়েছিল। কিন্তু কোম্পানির তরফে লোকের দুর্দশা দূর করার কোন প্রচেষ্টাছিল না। বরং
তারা ব্যবসার খাতিরে প্রথমে নুনের ব্যবসায়ে ট্যাক্স দ্বিগুন করে দ্যায়। নুনের
ব্যবসা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। উত্তর ভারতে সন্ধব লবন আর করকচের ব্যবহার চালু হয়ে
যায়। সুপারী এবং তামাকের ব্যবসা মনোপলি করে কারুর কাছে তামাক বা সুপারী পাওয়া গেলে
তাকে শাস্তি দেবার বন্দোবস্ত করা হয়।
এই
১৭৭০ খৃষ্টাব্দে জলপাইগুড়ি এবং মুর্শিদাবাদ জেলাতে সন্ন্যাসী বিদ্রোহ হয় যেটা
প্রায় ১৮০০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত চলতে থাকে। যদিও এটাকে ভারতের স্বাধীনতার সংগ্রামের
এক অধ্যায় বলে ধরা হয় তবুও কিছু ঐতিহাসিক এটা মুলত লুঠেরা সন্ন্যসী এবং বৃটিশ
ফৌজের মধ্যে লড়াই বলে মনে করেন। এটা মনে রাখতে হবে এই সময়ে মন্বন্তরের ফলে দেশে লোকজন
বিশেষ ছিল না। ফৌজ তাদের যুদ্ধ কৌশল দেখানোর সুযোগ পেয়েছিল, তা সত্বেও প্রায় ত্রিশ
বছর লেগে গিয়েছিল এদের দমন করতে। এই সন্ন্যাসীরা ছিল উত্তর ভারতীয় এবং
নাগাসম্প্রদায়ের লোক।
১৭৭০
সালেই বাকুড়া এবং মেদিনীপুর অঞ্চলে চুয়ার সম্প্রদায়ের লোকেরা বিদ্রোহ করে। নেতৃত্ব
দেন দুর্জন সিং। জমিদার শ্রেণী এবং মহাজনদের অত্যাচারের সাথেকোম্পানির আমলাদের
যোগসাজশের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ হয়। প্রথমে দুর্জন সিং এর নেতৃত্বে ১৭৯০ পর্যন্ত
এবং আবার ১৭৯৯ থেকে ১৮১৬ পর্যন্ত অঞ্চল সিং এর নেতৃত্বে এই বিদ্রোহ চলে। শেষের
দিকে কোম্পানির সৈন্যদলের সাথে এদের চোরাগোপ্তা গেরিলা নীতির লডাইএ কোম্পানির
সৈন্যদের পেছতে হয়। কিন্তু পরে শালবনী অঞ্চলের জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে এদের লুকোনর
জায়গার অভাব করে দিলে শেষ পর্যন্ত এদের পরাস্ত হতে হয়।
মুলত
কোম্পানি ভারতবর্ষে ব্যবসার জন্য মুঘলদের কাছ থেকে ফরমান পেয়েছিল। এবং লন্ডনের
ডিরেক্টরেরা তাই জানতেন এবং ভাবতেন। কোম্পানীকে তাদের ব্যবসার জন্য কিন্তু
ইংল্যান্ডে ট্যাক্স দিতে হত। ক্লাইভের সময় থেকেই দেখা যায় যে কোম্পামীর
প্রতিনিধিরা তাদের নিজের ব্যবসা চালু করে দিয়েছেন এবং বেআইনি ভাবে তাদের নিজস্ব
সম্পত্তির পরিমাণ বাড়িয়ে চলেছেন।
১৭৭০
খৃষ্টাব্দে বাংলা দেশে লুই বোণার্ড প্রথম নীল গাছের চাষ শুরু করেন। নীল রঙের
চাহিদা পুরো ইউরোপ জুড়ে ছিল কেননা সেটা সাধারণত পুরাতন প্রথাতে প্রাণিজ উৎপাদন
ছিল। কিন্তু নীল গাছের প্রধান অসুবিধা ছিল যে বর্তমান ইউল্যালিপটাস গাছের মত জমির উর্বরা
শক্তি কমিয়ে দিত কাজেই প্রত্যেক বছর একই পরিমাণ উৎপাদনের জন্য অধিক জমিতে চাষ করতে
হত। বৃটিশ শাসকগোষ্ঠী এই নীল চাষের জন্য গরীব কৃষকদের প্রথমে টাকা ধার দিয়ে তাদের
হাতে আনতে থাকেন। এই ধার দেওয়ার ব্যবস্থাকে বলা হত দাদন দেওয়া। কিন্তু অনেক বেশী
সুদের হার হবার ফলে কৃষকেরা একবার এই ঋনের কবলে পড়লে প্রায় ক্রীতদাস হয়ে যেত। নীল
চাষ করার জন্য এবং তার ফসল গুদামজাত করার জন্য জায়গায় জায়গায় নীলকুঠি তৈরী হল। হেষ্টিংসের
সময় পার্লামেন্টে এই অত্যাচার নিয়ে হেষ্টিংসের বিরুদ্ধে প্রস্তাব এলেও সেটা কিন্তু
পাশ হয় নি কারণ যারা এই সম্বন্ধে বলবার তাদের প্রায় প্রত্যেকের এই ব্যপারে নিজস্ব
স্বার্থ ছিল।
হেষ্টিংসের
পরে আসেন লর্ড কর্ণওয়ালিশ। এর আগেই বৃটিশদের সাম্রাজ্য বিস্তার বাংলা থেকে সরে
গিয়ে দাক্ষিণাত্যে চলে যায়। বৃটিশদের শাসন ব্যবস্থা তিন প্রেসীডেন্সীতে সীমাবদ্ধ
থাকে। (১) কলকাতা প্রেসীডেন্সী (২) মাদ্রাজ প্রেসীডেন্সী এবং বম্বে প্রেসীডেন্সী।
ক্লাইভের পরেই কলকাতা প্রেসীডেন্সীকে প্রাধাণ্য দেওয়া হতে থাকে, এবং কোম্পানি মুল
প্রতিনিধি কলকাতায় বসে গভর্ণর জেনারেল নামে বৃটিশদের স্বার্থের দিকে নজর রাখতে শুরু
করেন।
আগেই
বলেছি জমিদারদের প্রত্যেক বছরে নীলামের মারফত চাষ করার পাট্টা নিতে হত যেটা
রায়তয়ারী বা মহালয়ারী বলে জানা যেত। অবশ্যি তার নাম ছিল পুনিয়া। কর্ণওয়ালিশ এসে এই
ব্যবস্থাকে বদল করে দেন। ১৭৯০ খৃষ্টাব্দে তিনি এটাকে প্রথমে দশ বছরের জন্য
ব্যবস্থাতে রূপান্তরিত করেন। পরে ১৮০০ খৃষ্টাব্দে তিনি জমিদারদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের
মধ্যে নিয়ে আসেন। এতে জমিদারদের একটা স্থিতি এলে চাষীদের দুর্গতি কিছুটা কমে।
কিন্তু কর্ণওয়ালিশের পরে ওয়েলেসলি এসে তার সম্প্রসারণ নীতি দিয়ে বৃটিশদের
সাম্রাজ্য বিস্তারে মন দেন।তার বশ্যতামূলক সন্ধি বা মৈত্রী নীতির জোরে তার কথা
অনুযায়ীদেশীয় রাজন্যদের থাকতে হত। অমৃতসরের সন্ধিতে এরই জোরে পাঞ্জাবের মহারাজাকে
তার কাশ্মীর অঞ্চল ডোগরাদের বিক্রী করতে বাধ্য করা হয়।ওয়েলেসলীর পরে আসেন ডালহৌসি।
তিনি তারবিখ্যাত ডকট্রিন অফ ল্যাপ্স এর জোরে অপুত্রক রাজাদের দত্তক নেওয়া বন্ধ করে
সেই রাজ্য বৃটিশদের অধিকারে নিয়ে আসা শুরু করেন। সিপাহী বিদ্রোহ বা ভারতের প্রথম
স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ এখানেই শুরু হয়।
১৮৩৩
খৃষ্টাব্দেএক আইনের জোরে ভারতীয় কৃষকদের উপর নীলকর, জমিদার এবং মহাজনদেরঅত্যাচার
প্রায় আইনসিদ্ধ করে নেওয়া হল। নীলকরেরা কৃষকদের ধান তামাক ইত্যাদি চাষ করার বদলে
নীল চাষ করতে বাধ্য করা শুরু করল। নদীয়া, বীরভূম, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, যশোহর,
পাবনা এলাকাতে অন্য চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে গেল।
বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৪
বাংলার ইতিহাস (৩য় খন্ড)
১৩৩৮
সাল থেকে বাংলা দেশে মুসলিম শাসনের শুরু হয়। ফকরুদ্দিন মুবারক শাহপুর্ব বাংলার
সোনারগাঁ তে নিজেকে দিল্লীর সুলতান দের থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন বলে ঘোষনা করেন। আর
প্রায় দুশ বছর বাদে ১৫৭৬ সালে বাংলা দেশ মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
সোনারগাঁও
সম্বন্ধে এখানে কিছু বলে নি। দেব বংশীয় রাজা দনুজমাধব দশরথ দেব, সেন বংশের রাজাকে
পরাস্ত করে বিক্রমপুর থেকে তার রাজধানী তুলে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি
সোনারগাঁওতে নিয়ে আসেন। কিন্তু সামশুদ্দিন ফিরোজ শাহের আক্রমণে পরাজিত হলে
সোনারগাওতে মুসলিম শাসনের শুরু হয়। যদিও এর আগে সুফি সন্তেরা সোনারগাওতে এসে তাদের
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ফিরোজ
শাহের মৃত্যুর পরে তার ছেলে গিয়াসুদ্দিন বাহাদুর শাহ ১৩২২ খৃষ্টাব্দে সুলতান হলে
দিল্লির সুলতান গিয়াসুদ্দিন তুঘলক তাঁকে যুদ্ধে পরাজিত করে বন্দি করেন। কিতু
গিয়াসুদ্দিন তুঘলকের মৃত্যু হলে তার ছেলে মহম্মদ বিন তুঘলক সুলতান হন এবং বাহাদুর
শাহকে মুক্তি দিয়ে তাঁকে সোনারগাঁও র গভর্ণর হিসাবে নিযুক্ত করেন। চার বছর গভর্ণর
হিসাবে শাসন করার পরে বাহাদুর শাহ ১৩২৮ খৃষ্টাব্দে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে সুলতান
মহম্মদ বিন তুঘলক তার সেনাপতি বাহরাম খান কে পাঠান বিদ্রোহ দমন করতে, বাহাদুর
শাহের সাথে যুদ্ধে পরাজয় ঘটে এবং তার মৃত্যু হয়। বাহরাম খান সোনারগাঁও এর গভর্নর
নিযুক্ত হন।
১৩৩৮
খৃষ্টাব্দে বাহরাম শাহের মৃত্যু হলে তার অঙ্গরক্ষক ফকরুদ্দিন মুবারক শাহ নিজেকে
সোনারগাঁর স্বাধীন সুলতান বলে ঘোষনা করেন। সেই সময় লাখনউটি বা গৌড়ে হাজী ইলিয়াস
মুঘলদের হয়ে সুলতান হিসাবে শাসন করছিলেন। ১৩৪২ খৃষ্টাব্দে ফকরুদ্দিন শাহের মৃত্যু
হলে তার পুত্র ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহ সুলতান হন। এর তিন বছর বাদে গৌড়ের সুলতান ইলিয়াস
শাহ সোনারগাঁও আক্রমণ করেন এবং সোনারগাঁও জয় করেন। তিনি সাতগাও(সপ্তগ্রাম),
সোনারগাঁও এবং গৌড় (লাখনাখৌটি বা লক্ষনাবতী) এক করে সমগ্র বাংলার সুলতান হিসাবে
নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৪৩৫ খৃষ্টাব্দে শামসুদ্দিন আহমদ শাহের মৃত্যু হলে
সভাসদেরা নাসিরুদ্দিনকে সিংহাসনে বসান। নাসিরুদ্দিন নিজে নাসিরুদ্দিন মহম্মদ শাহ
নাম নিয়ে সুলতান হিসাবে রাজত্ব করতে থাকেন।
ইলিয়াস
শাহী বংশের মধ্যে আমরা রাজা গণেশের কিছু অংশ পাই। ১৪১৫ থেকে ১৪৩৫ খৃষ্টাব্দ
পর্যন্ত রাজা গণেশের শাসন ছিল। রাজা গণেশ দিনাজপুরের গভর্ণর, এবং ভাতুরিয়ার এক
জমিদার ছিলেন। কারুর মতে রাজা গণেশ গিয়াসউদ্দিন মহম্মদ আজম শাহ কে হত্যা করেন,
কিন্তু অন্যদের মতে গিয়াসউদ্দিন শাহের মৃত্যু সাধারণ ভাবেই হয়েছিল। গিয়াসুদ্দিনের
মৃত্যুর পরে তার পুত্র সইফুদ্দিন হামজা শাহ দু বছর রাজত্ব করার পরে শিহাবুদ্দিন
বায়াজিদ শাহসুলতান হন। কারুর মতে রাজা গণেশের কাছে শিহাবুদ্দিনের মৃত্যু হয় আবার
কারুর মতে শিহাবুদ্দিনের পুত্র আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহের মৃত্যু হয়। যাই হোক না কেন
এই মৃত্যুর ফলে ইলিয়াস শাহী বংশের বদলে রাজা গনেশের হিন্দু রাজত্ব স্থাপিত হয়।
রাজা
গণেশের রাজত্বের সময় ঐতিহাসিক ফিরিস্তার মতে হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি ছিল, যদিও
ঐতিহাসিক রিয়াজের মতে গৌড় বা পান্ডুয়ার মুসলিমদের উপর অত্যাচার হয়েছিল। শেখ নুর
কুতব উল আলম এক চিঠি লিখে জৌনপুরের সুলতান ইব্রাহিম শাহ সারকি কে বাংলা দেশ আক্রমণ
করতে ডেকে পাঠান।মুল্লা তাকিয়ার মতে ইব্রাহিম শাহ যখন রাজা গণেশকে শিক্ষা দেবার
জন্য অগ্রসর হন তখন মিথিলার রাজা শিবসিংহএর কাছে বাধা পান।
ইব্রাহিম
শাহের আক্রমণ সম্বন্ধে নানান মত আছে। কেউ বলেন যে ইব্রাহিম শাহের মুল লক্ষ্য ছিল
বাংলাদেশের পুর্ব দিকে কোন রাষ্ট্র। আবার আব্দুর রজ্জক সমরখন্ডীর মতে হেরাতের
তিমুরিদ বংশীয় সুলতান শাহরুখের (মতান্তরে তিমুরের পুত্র) কাছ থেকে ইব্রাহিম শাহ এই
মর্মে নির্দেশ পান যে বাংলা দেশ আক্রান্ত হলে হেরাতের সুলতান শাহরুখ বাংলা দেশকে
সাহায্য করবেন। যার ফলে ইব্রাহিম শাহ রাজা গণেশের বিরুদ্ধে আর অগ্রসর হতে সাহস পান
নি। মুল ফারসী ভাষায় লেখা চিঠিতার সারাংশ এখানে দেবার লোভ সামলাতে পারলাম না।
ফরমানে
লেখা হয়েছিল, “আমার এই ফরমান তোমার
হাতে পৌঁছানর এক দিনের মধ্যে তুমি যে সমস্ত গৌড় এর মুসলমান নাগরিকদের বন্দী
বানিয়েছ তাদের সসন্মানে নিজের নিজের ঘরে পৌঁছে দেবার বন্দোবস্ত করবে, এবং তাদের
ক্ষতির সমূচিতভাবে ক্ষতি পুরন করবে। এ কথার অন্যথা হলে আমি কাবুলের রাজাকে তার
সমস্ত সঙ্গীদের নিয়ে তোমাকে আক্রমণ করতে আদেশ দেব। এতেও তুমি যদি না বুঝতে চাও তবে
সমস্ত মধ্য প্রাচ্যের (জায়গাগুলোর নাম করে) রাজ্য গুলিতে যারা শাসন করছে তাদের
আদেশ দেব যে তোমাকে তারা গিয়ে যেন উচিত শাস্তি দেন। এতেও যদি না মানবার ইচ্ছে থাকে
তবে সুদূর তুর্কিস্থানের রাজাকেও বলব সে যেন তোমাকে হত্যা করার বন্দোবস্ত করেন।
তাতে যদি তোমার সদবুদ্ধি না জাগে তবে আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধাদের পাঠাব
তোমাকে টুকরো টুকরো করে কাক দিয়ে মাংস খাওয়াতে।“আমার
ভাষাতে তেমন জোর নেই, কিন্তু চিঠিটা এতই কাজ দিয়েছিল সে ইব্রাহিম শারকী তৎক্ষণাৎ
পেছন ফেরেন। গৌড়ে আর আক্রমণ হয় না।
কিন্তু
রাজা গণেশ ইব্রাহিম শাহের আক্রমণের ভয়ে শেখ নুর কুতব উল আলমের কাছে ভরসা চাইলে,
তিনি রাজা গনেশের পুত্র যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন। যদু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে
জালালুদ্দিন মহম্মদ শাহ নামে শাসন করতে শুরু করেন। কিন্তু ইব্রাহিম শাহ জৌনপুরে
ফেরত গেলেই আবার রাজা গণেশ সিংহাসনে বসেন।পরে যদুর কিছু ভৃত্যের হাতে রাজা গণেশের
মৃত্য হয়, যদু আবার জালালুদ্দিন নামে শাসন শুরু করেন।
শ্রী
যদুনাথ সরকারের মতে রাজা গনেশ দনুজমর্দনদেব নামেও পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পরে
তার দ্বিতীয় পুত্র মহেন্দ্রদেব নামে সিংহাসনে বসেন। পরে গণেশের প্রথম পুত্র
জালালুদ্দিন সুলতান হয়ে বসেন। কিন্তু ঐতিহাসিক নলিনীকান্ত ভট্টশালীর মতে গণেশের
মৃত্যর পরে জালাউদ্দিন আবার হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়ে মহেন্দ্রদেব নামে শাসন শুরু
করেন। এবং পরে আবার জালালুদ্দিন নামে শাসন করেন। জালালুদ্দিন মহম্মদ শাহের পরে ছ
জন পর পর সুলতান হন। শেষ ইলিয়াস শাহী বংশের সুলতান ছিলেন জালালুদ্দিন ফতেহ শাহ।
যদিও তার সাম্রাজ্য পুর্বে শ্রীহট্ট থেকে দক্ষিণ পশ্চিমে দামোদর নদ পর্যন্ত
বিস্তৃত ছিল তবুও ১৪৮৭ খৃষ্টাব্দে তার এক হাবসী সেনাধ্যক্ষের হাতে তার মৃত্যু হয়।
হাবসী
সেনাধ্যক্ষ শাহজাদা বারবাক নাম নিয়ে সুলতান হন।কিন্তুআর একজন হাবসী সেনাধ্যক্ষ
সইফুদ্দিন ফিরোজ শাহের হাতে সুলতান বারবাকের মৃত্যু ঘটে। সইফুদ্দিন সুলতান হিসাবে
রাজত্ব শুরু করেন। ১৪৯৪ খৃষ্টাব্দেহাবসি বংশের শেষ সুলতান শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
তার ওয়াজির সৈয়দ হুসেনের হাতে মারা যান। সৈয়দ হুসেন নিজে আলাউদ্দিন হুসেন শাহ নাম
নিয়ে সুলতান হয়ে হুসেন শাহী বংশের পত্তন করেন।
আলাউদ্দিন
হুসেন শাহ কে বাংলার সুলতানদের মধ্য সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়। তার রাজ্য কামরূপ
(বর্তমান পূর্ব আসাম), কামতা (বর্তমান কোচবিহার এলাকা, খেন রাজ বশের শেষ রাজা
মীলাম্বর কে হারিয়ে)), জাজনগর (ওড়িষ্যার পূর্ব দিকের অংশ)এবং ওড়িষ্যা পর্সন্ত
বিস্তৃত ছিল।কিন্তু ভুইয়াদের আক্রমনে আবার ১৫০৫ খৃষ্টাব্দের কোচ বংশেরশাসনেরপুনরায়
আগমন ঘটে। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ এর পরে সুলতান হন নাসিরুদ্দিন নসরত শাহ এবং তার পরে
মাহমুদ শাহ। নাসিরুদ্দিন নসরত শাহ তার শাসন কালে বাবরের আক্রমন থেকে আফগান
নৃপতিদের আশ্রয় দেন। কিন্তু নাসিরুদ্দিন শাহ বাবর এবং আফগান লড়াইএ নিরপেক্ষ
অবস্থান নিয়েছিলেন।১৫৩৮ খৃষ্টাব্দে আফগান দের হাতে হুসেন শাহী বংশের পরাজয় ঘটে এবং
বাংলা দেশে আফগান শাসনের প্রতিষ্ঠা হয় । ১৫৩৯ খৃষ্টাব্দে চৌষার যুদ্ধে শের শাহের
হাতে হুমায়ুনের পরাজয় হলে বাংলা দেশে আফগান শাসন পুর্ণ ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়,এই
আফগান বংশা কাররানী বংশ নামে পরিচিত ছিল।
শের
শাহের মৃত্যুর পরে এই কাররানী বংশের সুলতানেরা মুঘল সম্রাট আকবরের অধীনতা স্বীকার
করে নেন। আর ১৫৭৪ খৃষ্টাব্দে সম্রাট আকবর শেষ কাররানী সুলতান দাউদ কাররানীকে
হারিয়ে দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশকে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্গত করেন। এই সময় মুনিম খান
রাজধানী গৌড় থেকে টান্ডাতে নিয়ে যান।১৫৭৫ খৃষ্টাব্দে মুনিম খান এবং রাজা টোডরমল্ল
এর যুগ্ম প্রচেষ্টায় বাংলাতে পুর্ণ মুঘল অধিকার প্রতিষ্টা হয়।
যদিও
বাংলাতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার কথা এখানে বলা হচ্ছে তবুও ঐ সময় আফগান সুলতান
শাহীর যে সমস্ত গভর্ণর ছিলেন তারা মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকরতে থাকে। এদের মধ্যে
উল্লেখযোগ্য নাম ছিল ঈশা খান, প্রতাপাদিত্য, কেদার রায় এবং কন্দর্পনারায়নের
।ঈশাখান মুঘল দের খাজনা দিলেও কার্যত স্বাধীন ছিলেন, অন্যেরা নিজ নিজ জায়গাতে
স্বাধীন ভাবেই শাসন করছিলেন। এই দলপতিরা বারো ভুইয়া নামেও পরিচিত ছিলেন।
১৫৯৪
খৃষ্টাব্দে রাজা মান সিংহ বারো ভুইয়াদের দমন করতে এলে ঈশাখানের সাথে যুদ্ধে(১৫৯৭
খৃষ্টাব্দ) তিনি হেরে যান। রাজ মান সিংহ ঈশা খানের মৃত্যুর পরে তার পুত্র দাউদ খান
কে ভাটী এলাকা থেকে সোনারগাওতে তাড়িয়ে দেন। কেদার রায়কে হত্যা করা হয়। আকবরের
মৃত্যুর পরে জাহাঙ্গীর বাংলার গভর্ণর হিসাবে ইসলাম খান চিস্তিকে নিযুক্ত করলে
তিনি১৬০৮ খৃষ্টাব্দে এসে গৌড় থেকে তার রাজধানী ঢাকাতে সরিয়ে নিয়ে আসেন। ঢাকার নতুন
নাম দেওয়া হয় জাহাঙ্গীরাবাদ।কিন্তু সাধারণ জনতা এই নতুন নাম পছন্দ করেন না, সাধারণ
ভাবে ঢাকা নাম থেকে যায়। ইসলাম খানযশোহরের প্রতাপাদিত্যকে পরাস্ত করেন, এবং
ঈশাখানের অন্য পুত্রকেও পরাস্ত করে বন্দী করেন। বারো ভুইয়ারা একে একে সব পরাস্ত
হয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের বশ্যতা স্বীকার করে নেয়। বাংলা দেশের তদানীন্তন গরিমার
প্রকাশে এই নবাবদের অবদান প্রচুর।
১৬৫৭
খৃষ্টাব্দে লাহোরের সংগ্রাম রাই যিনি মুঘলদের এক জন কর্মচারী ছিলে বর্ধমান এলাকার
রাজা হিসাবে মুঘলদের কাছ থেকে ফরমান পান। তার রাজত্বের ক্রমশ বিস্তার ঘটে এবং
বিষ্ণুপুরের মল্ল বংশের উপর আক্রমনে বিজয়ী হন।
ইসলাম
খান চিস্তির পরে ১৭১৩ খৃশ্তাব্দে বাংলা গভর্ণর হয়ে আসেন মুর্শিদ কুলী খান। ছ
বিছ্রের মধ্যে তাঁকে অড়িষ্যার দিওয়াআন নিযুক্ত করা হয়। তিনি এসে তার রাজধানী ঢাকা
থেকে সরিয়ে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যান। তখনকার দিনে মুর্শিদ কুলি খান এবং সুজা খান
মুঘল সম্রাটকে বার্ষিক খাজনা হিসাবে এক কোটী টাকা দিতেন।
১৭২৭
খৃষ্টাব্দে মুর্শিদ কুলী খানের মৃত্যুর পরেতার পুত্র সুজাউদ্দিন বাঙ্গলা বিহার এবং
অড়িষ্যার দিওয়ান নুক্ত হন। বাংলা দেশের রাজনৈতিক অশান্তি এলে সেই সুযোগে নাগপুরের
মারাঠা মহারাজা রঘুজী ওড়িষ্যার সাথে বাংলা দেশের কিছু অংশ দখল করেন।কিন্তু
কিছুদিনের মধ্যে মারাঠাদের বাংলা দেশ থেকে বিতারন করা হয়। এই মারাঠেদের বর্গী
নামেও অভিহিত করা হয়েছে।
১৭৪০
খৃষ্টাব্দে পাটনার এক তুর্কিস্তানী সিপাহী, আলিবর্দী খান সুজাউদ্দিনের পুত্র
সরফরাজ খানকে হত্যা করে মুর্শিদাবাদের নবাব হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭৫৬
খৃষ্টাব্দে আলিবর্দিখানের পৌত্র সিরাজউদ্দৌল্লা নবাব হন কিন্তু আমিনচাদ বা উমিচাদ
এবং মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে পলাশির যুদ্ধে সিরাজের পরাজয় হয়, বাংলা দেশে
ইংরেজ শাসনের সুত্রপাত হয়।
সিরাজউদ্দৌল্লার মৃত্যুর পরে মীর জাফর তার
বিশ্বাসঘাতকতার পুরস্কার হিসাবে বাংলা দেশের মসনদে বসেন। অবশ্যি প্রতিদাব হিসাবে
মীরজাফর বর্তমাণ ২৪ পরগণা এলাকা বৃটিশদের দান করেন। সাথে উপঢৌকন হিসাবেপ্রচুর
ধনরত্ন ও দেওয়া হয়। ফলে মীর জাফরের আর্থিক ক্ষমতাকমে এলে বৃটিশেরা তার জামাই মীর
কাশিমকে বাংলার মসনদে বসান। প্রতিদান হিসাবে তিনি বৃটিশদের মেদিনীপুর, বর্ধমান এবং
চট্টগ্রাম এলাকা দান করেন।ব্রিটিশদের চাপ মীর কাশিমের উপর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় মীর
কাশিম তার রাজধানী সরিয়ে মুঙ্গেরে নিয়ে যান। এবং বৃটিশদের দেওয়া সমস্ত বানিজ্যিক
অধিকার বন্ধ করে দেন। বৃটিশেরা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে এবং পাটনা অধিকার
করে। মিরকাশিম পাটনা পুনরায় অধিকার করলেও পরে বৃটিশদের সাথে ঘরিয়া, উরানওয়ালা এবং
মুঙ্গেরের যুদ্ধে মীরকাশিমের পরাজয় হয়। মীর কাশিম পালিয়ে গিয়ে অযোদ্ধাতে আশ্রয়
নেন।১৭৬৪ খৃষ্টাব্দেরঅযোদ্ধার নবাব সুজাউদ্দৌল্লা, বাংলার নবাব মীর কাশিম এবং মুঘল
বাদশা দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে বৃটিশদের বক্সারের যুদ্ধে বৃটিশেরা জয়ী হন। ফলে বাংলা
দেশে যেটুকু নবাবী শাসন ছিল তার অবসান হয় এবং ইংরেজ কতৃত্ব পুর্ণ ভাবে শুরু হয়ে
যায়।
রবিবার, ৯ মার্চ, ২০১৪
প্যারডী লেখার প্রচেষ্টা
(১)
যদি কেউ ছেড়ে দিতে বলে
কবিতা লেখা,
সেটাতো আমি ছেড়ে দেব
না।
যদি কেউ এসে বলে লিখেছ
কি ছাই পাশ
তার কথাতো আমি মেনে নেব
না ।
কেননা জানি আমি মানি
আমি, এগুলো কতখানি
আমার খুসীকে বাড়ায়,
প্রতিটি পোষ্টের নীচে,
লোকে এদিক ওদিক থেকে
লাইক বাটন খুঁজে বেড়ায়
আর আমার আনব্দের সাথে,
ঐ সব গুলো পড়াতে
অন্যেরাও যে খুসি হয়।
তাই লিখে যাই খাতার
পাতাতে, ফেসবুকেও তার সাথে
যতক্ষণ থাকবে কলমে কালি
তার পরে সব সাদা, আনকোরা
সাদা পাতা
দেবে না তো আর কেউ
গালি।।
যদি কেউ বলে –অটোগ্রাফের প্যারডি
হয়তো মোবাইলে লেখার জন্য
হয়েছি আমি ভিন্ন
জানি তোমার কি প্রশ্ন
কি করে এটা হল হায়।
যদি পারতেম জানতে
সবারই অজান্তে
অক্ষর গুনতে গুনতে
ডেস্কটপে লিখতাম ভাই।
আমি যখন মোবাইলে মত্ত
মাথাটাও হচ্ছিল তপ্ত
ফোনে লেখা যে এত শক্ত
তা কি জানতাম হায়।।
আহা হা আহা আ আ আ।।
তিন ভুবনের পারে – গানের প্যারডি
আমি
কোন পথে যে চলি
সামনে
দুটো গলি
কোন
রাস্তা কথায় গেছে
কেমন
করে বলি।
ডান
দিকেতে ঢুকে গিয়ে মোড়টা ঘুরে দেখি
রাস্তা
জুড়ে শুয়ে আছে শিবের বাহন একি
তাইতো
আমি ফেরত আসি
আরে
বাবা পালিয়ে আসি
হয়তো
আগের মোড়টাতে ভুল ঘুরেছি ওরে
গোলকধাঁধায়
আমি এখন মরছি কেবল ঘুরে
এখন
আমি কাকে ধরি
মানে
রাস্তা জিজ্ঞেস করি।
আমি
কোন পথে চলি –
ছদ্মবেশীর গানে প্যারডি
ওরে
তরু, শোনরে তরু
তোরা
গরুটাকে ধর
ধরতে
যদি না পারিস তো
সামনে
থেকে সর।
এখুনি
দাপিয়ে ওটা ভাংবে সব আমার
বাছুরটাকে দেনা এনে সামনেতে ওটার
ছানা
টাকে দেখলে পরে শান্ত হবে
আর
দেরীর কি দরকার।
ওরে
তরু শোনরে তরু
তোরা
গরুটাকে ধর।
মার
ঝাড়ু –
মর্জিনা আবদাল্লা র গানের প্যারডি
শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০১৪
হ্যয়দ্রাবাদ, অন্ধ্র, তেলেঙ্গানার কথা
দাক্কিণাত্য বলতে আমরা যে জায়গাটাকে বুঝে নিতে পারি তার
উত্তর সীমা হচ্ছে নর্মদা এবং মহানদী এবং দক্ষিনে পেরিয়ার নদী এবং নিলগিরি
পর্বতমালা। পুর্ব এবং পশ্চিম দিকে পুর্বঘাট এবং পশ্চিনঘাট পর্বতমালা এই জায়গাটাকে
প্রায় দুর্ভেদ্য করে রেখেছে। একমাত্র গুজরাটের দিক থেকে একে আক্রমণ করার
সুযোগ আছে। এই কারনে পশ্চিমঘাট পর্বতের উপরে অনেক দুর্গ গড়ে উঠেছিল।
অস্মক মহাজনপদের (খৃষ্টপুর্ব সপ্তম থেকে তৃতীয় শতাব্দী)
সময় থেকে আমরা অন্ধ্র প্রদেশের লিখিত ইতিহাস দেখতে পাই। অস্মক জনপদের জায়গা
নির্ধারন করা হয়েছে নর্মদা এবং গোদাবরীর মাঝে। অন্ধ্রের লোকেদের ঋষি বিশ্যামিত্রের
বংশধর বলে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণে এবং জাতক কাহিনীতে বলা হয়েছে।
খৃষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে বর্তমান হায়দ্রাবাদের
এলাকাতে মৌর্য্য শাসন ছিল। সম্রাট অশোকের মৃত্যুর পরে মৌর্য্য সামন্তদের মধ্যে
সাতবাহনেরা স্বাধীনতা ঘোষনা করে এবং সাতবাহন রাষ্ট্র বা অন্ধ্র রাষ্ট্রের পত্তন
করেন। প্রায় ৪৫০ বছর ধরে এদের শাসন দাক্ষিনাত্য এবং মধ্য ভারতে চলে। সাতবাহনদের
শাসনের পরে আসে অন্ধ্রের ইক্ষাকু বংশ। এদের শাসন চলে প্রায় ১০০ বছর। এদের রাজধানী
ছিল বর্তমান নলকোন্ডা জেলার নাগার্জুনকোন্ডাতে।
এর পরে আসে চালুক্য রাজাদের কল্যানীরা আর তাদের পরে আসে
কাকতীয় বংশ। চালুক্যদের সামন্ত ছিল কাকতীয়েরা। ওয়ারাঙ্গল ঘিরে এদের রাজত্ব ছিল।
কাকতীয় রাজত্বের শ্রী এবং সম্পদ দেখে আলাউদ্দিন খিলজীর সেনাপতি মালিক ফকরুদ্দিন ওয়ারাঙ্গল
আক্রমন করেন কিন্তু কাকতীয়দের হাতে খিলজির সেনা বাহিনী পরাজিত হয়। ১৩০৯ খৃষ্টাব্দে
মালিক কাফুর আবার কাকতীয় সাম্রাজ্যের উপরে আক্রমন করেন। ওয়ারাঙ্গল দূর্গের পতন হয়,
হত্যা এবং লুটপাট বন্ধ করার জন্য কাকতীয় রাজা প্রতাপরুদ্র মালিক কাফুরকে প্রচুর ধন
সম্পত্তি দিয়ে শান্ত করেন। খিলজী বংশের পতনের সময় রাজা প্রতাপরুদ্র আবার স্বাধীনতা
ঘোষনা করেম। ১৩২৩ খৃষ্টাব্দে গিয়াসুদ্দিন তুঘলক তার পুত্র উলুঘ খান কে ওয়ারাঙ্গল আক্রমন
করতে পাঠান, কিন্তু পরাজিত হয়ে উলুঘ খান ফিরে যান। এক মাসের মধ্যেই উলুঘ খান আবার
সৈন্য-সামন্ত নিয়ে ওয়ারাঙ্গল আক্রমন করেন। এইবার রাজা রুদ্রপ্রতাপ হেরে যান।
লুটপাট হত্যা অত্যাচারে উলুঘ খান তার পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে শুরু করেন । শোনা যায়
কোহিনুর মণি এই সময় দাক্ষিনাত্য থেকে দিল্লিতে উপঢৌকন হিসাবে যায়। আরও বলা হয় যে
লুঠ এবং উপঢৌকনের জিনিষ দিল্লী নিয়ে যাবার জন্য ২০০০০ ঘোড়া এবং ১০০ হাতীর দরকার
হয়েছিল। প্রতাপরুদ্র বা রুদ্রপ্রতাপ বন্দী অবস্থাতে দিল্লীর পথে আত্মহত্যা করেন।
প্রতাপরুদ্রের ৭৫ জন নায়ক বা সর্দার ছিলেন। যদিও এরা একে
অন্যের উপরে ইর্ষা বা লোভ প্রতিপালন করতেন তবুও এই আক্রমনের সময় ওয়ারাঙ্গল রক্ষা
করতে তার প্রানপন যুদ্ধ করেন। অনেকে বন্দী হবার পরে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে তুঘলক
শাসনের হয়ে কাজ করতে থাকেন (হরিহরণ এবং বুক্কা , যারা পরে হাম্পিতে বিজয়নগর
রাজ্যের পত্তন করেন, উল্লেখযোগ্য) ।
১৩২৩ খৃষ্টাব্দে সমগ্র দাক্ষিণাত্য (হয়শালা এবং কাম্পিলি
সাম্রাজ্য সমেত) দিল্লীর সুলতানের শাসনে আসে। উলুঘ খান, মহম্মদ বিন তুঘলক নামে
দিল্লীর সুলতান হন। এই সময় তুঘলকী শাসনের বিরুদ্ধে একজন নায়ক, মুন্সুরী প্রলয়নায়ক
বা প্রলানীডু র মত এক খাম্মা বীরের নেতৃত্বে দেবনায়ক, কাম্মানায়ক এবং রাজানায়ক এক
সাথে হয়ে তুঘলকী শাসনের অবসান ঘটানোর জন্য নেমে পড়েন। ১৩২৮ সালে ওয়ারাঙ্গল তুঘলকী
শাসন মুক্ত হয়। ওয়ারাঙ্গলের মুক্তি দেখে কাম্পিলি, হয়শালা, দ্বারাসমুদ্রম, আরাভিডু
ও স্বাধীনতা ঘোষনা করে। সুলতান নিজে এদের দমন করবার জন্য এক বিশাল সৈন্যদল নিয়ে
আসেন কিন্তু নায়কদের আক্রমনে ফিরে যান। সমগ্র দাক্ষিনাত্য তুঘলকী শাসন মুক্ত হয়।
১৩৪৫ খৃষ্টাব্দে মহম্মদ বিন তুঘলকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা
করে হাসান গাঙ্গু বাহমণি সান্রাজ্যের পত্তন করেন। আলাউদ্দিন বাহমন শাহ নাম নিয়ে
তিনি তার রাজ্যর রাজধানী বিজাপুরে নিয়ে আসেন। তার কিন্তু প্রথম থেকেই ইচ্ছে ছিল যে
সমগ্র সাক্ষিনাত্য তার শাসনে আসুক।
১৩৫১ খৃষ্টাব্দে মহম্মদ বিন তুঘলকের মৃত্যুর পরে
আলাউদ্দিন তেলেঙ্গানা এলাকা দখল করার জন্য আক্রমণ করেন। লুটপাঠ চালানর পরে আবার
তিনি গুলবর্গাতে ফিরে যান এবং ১৩৫৯ খৃষ্টাব্দে তার মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যে মুন্সুরী
নায়কদের মধ্যে কে বড় এবং তাদের শাসনের বিস্তার নিয়ে ঝগড়া লেগে যেতে শুরু হয়েছিল। রেচেরিয়ার নায়ক সিঙ্গামা ভার্মা রেড্ডীর শাসনের
অন্তর্গত আদ্দাঙ্কি আক্রমন করলে কায়াপ্পার কাছে মধ্যস্থতা করা জন্য ভার্মা রেড্ডী আসেন।
কায়াপ্পা, সিঙ্গামাকে আক্রমণ বন্ধ করতে হুকুম দেন। যদিও আক্রমন থামে তবুও সিঙ্গামা
এটাকে ভাল ভাবে মেনে নিতে পারেন নি। সিঙ্গামা পরে আলাউদ্দিনকে ওয়ারাঙ্গল আক্রমন
করার জন্য আগ্রহান্বিত করেন।
আলাউদ্দিনের মৃত্যুর পরে মহম্মদ শাহ সুলতান হলে কায়াপ্পা
এবং বিজয়নগরের রাজা বুক্কা মহম্মদ শাহের সাথে যুদ্ধে হেরে যান।
কিন্তু কায়াপ্পার মনে মনে তেলেঙ্গানা এলাকা থেকে সুলতানী
অধিকার সমাপ্ত করার ইচ্ছে নিয়ে আবার বাহমণি সাম্রাজ্য আক্রমন করেন, এবং এতে সাথ দেন বিজয়নগরের বুক্কা। বুক্কা ইতিমধ্য
মারা গেলে বিজয়নগরের সহায়তা কমে আসে। তাছাড়া রচকন্ডা এবং দেবরকন্ডা নায়করা বাহমণি
সুলতানকে সাহায্য করার ফলে যুদ্ধে কায়াপ্পা জিততে পারেন না। শেষ কালে ঠিক হয় যে গোলকোন্ডা
হবে দুই রাজ্যের সীমানা, এই সন্ধিতে কায়াপ্পা কে প্রচুর উপঢৌকন এবং ক্ষতিপূরণ
মহম্মদ শাহকে দিতে হয়।
ওয়ারাঙ্গলের দুর্বলতা দেখে রেচেরিয়ার সিঙ্গামা নায়ক ওয়ারাঙ্গল
দখল করে, কায়াপ্পা যুদ্ধ মারা যান। এর পরে ভুবনগিরির নায়কেরা ওয়ারাঙ্গলের শাসনে আসেন।
কিন্তু আসলে তারা বাহমণি সাম্রাজ্যের অধীন ছিলান।
অবশেষে ১৫২২ খৃষ্টাব্দে বিজয় নগরের রাজা কৃষ্ণ দেব রাও বিবদমান
কলিঙ্গ এবং রেড্ডীদের নিয়ে সমস্ত অন্ধ্র দেশকে একত্রিত করেন। এদিকে কায়াপ্পার মৃত্যুর
পরে আস্তে আস্তে নায়কেরা ওয়ারাঙ্গল ছেড়ে বিজয়নগরে চলে যান এবং তাদের বিজয়নগরে
যাওয়ার ফলে বিজয়নগর শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
১৫৮৯ সালে মহম্মদ কুলী কুতব শাহ কুতব শাহী বংশের পত্তন করেন। বর্তমান
হায়দ্রাবাদে তার রাজধানী বানান এবং তার নাম দেন বাঘনগর বা বাঘানগর। বলা হয় যে
বাঘমতী নামে এক নর্তকীর প্রেমে পরে কুতব শাহ তাঁকে বিবাহ করেন এবং তার পরে তার নাম
হয় হায়দারমহল। তার থেকেই শহরের নাম হয় হায়দ্রাবাদ। কারুর মতে কুলী কুতব শাহের
পুত্র হায়দারের নামে হায়দ্রাবাদ শহরের নামকরণ করা হয়। কারুর মতে ফার্সী শব্দ
হায়দার (অর্থ বীর) এবং আবাদ (অর্থ শহর) থেকে হায়দরাবাদ বা হায়দ্রাবাদ (বীরের শহর)
কথাটি এসেছে। গোলকোন্ডা দূর্গে জায়গার অভাব দেখে সুলতান মুসী নদীর ধারে এক খোলা
জায়গা নির্ণয় করেন যাতে তার শহর তার নক্সা
অনুযায়ী বানান যায়। ১৫৯১ সালে চারমিনারের নির্মান করা হয় যাতে শহরের প্রগতির দিকে
নজর রাখা যায়, এবং মুসী নদীর বন্যার হাত থেকে সময় মত সঙ্কেত পাওয়া যায়।
ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে হাদ্রাবাদের প্রগতি
ছিল দর্শনীয়। প্রত্যেক কুতব শাহী সুলতানেরা ছিলেন বিদ্বান এবং স্থাপত্যকলার প্রোৎসাহক। গলকন্ডার থেকে লোকেরা এসে হায়দ্রাবাদে থাকা শুরু
করল। বহিরাগতেরা হায়দ্রাবাদকে ইরানের ইস্পাহানের সাথে তুলনা করতে শুরু করল তার
কারন ছিল হায়দ্রাবাদের বাগিচা এবং সৌন্দর্য।
ষোড়শ শতাব্দীর সময়ই হায়দ্রাবাদ দিল্লীর সম্রাটের নজরে
পড়ে। আউরঙ্গজেব দাক্ষিণাত্যের অভিযানের সময় হায়দ্রাবাদ দখল নেবার মনস্থ করেন,
কিন্তু দুর্ভেদ্য গোলকোন্ডা দুর্গের কারনে হায়দ্রাবাদ দখল করা সমীচীন মনে করেন না।
তবুও কুলিচ খান আর ফিরোজ জঙ্গ এর নেতৃত্বে ১৬৮৬ সালে গোলকোন্ডা দুর্গ অবরোধ করেন কিন্তু কোন লাভ হয় না।
ব্যার্থ হয়ে ফিরে যাবার কিছু পরে আবার ১৬৮৭ সালে গোলকোন্ডা অবরোধ করলে আবদুল্লা
খানের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে দুর্গের পতন হয়। হায়দ্রাবাদ মুঘল শাসনে আসে। কিন্তু
চল্লিশ বছরের মধ্যে ১৭০৭ সালে আউরঙ্গজেবের মৃত্যু হলে হায়দ্রাবাদের গভর্ণরেরা
প্রায় স্বায়ত্বশাসিত অবস্থায় চলে আসেন। ১৭২৪ সালে কুলিচ খানের পৌত্র মীর
কামারউদ্দিন সিদ্দিকী হায়দ্রাবাদের দখল নেন এবং আসফ জাহী বংশের শাসনের প্রতিষ্ঠা
করেন। যেহেতু মুঘল আমলে মীর সিদ্দিকি, নিজাম-উল-মুল্ক উপাধি পেয়েছিলেন, তাই এই বংশ
নিজাম নাম নিয়ে শাসন করতে থাকেন ।
পরপর সাত জন নিজামের শাসন কালে হায়দ্রাবাদ পশ্চিমী
উপনিবেশ শক্তি থেকে যদিও সাধারণ ভাবে মুক্ত ছিল তবুও ইংরেজ দের বাৎসরিক কর দিতে
হত। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলে তৎকালীন নিজাম ভারতে যোগ না দিয়ে স্বাধীন ভাবে
থাকবার ইচ্ছে প্রকাশ করেন এবং সেই সময় রাজাকারেরা নিজামের শাসনের পক্ষে লড়াই শুরু
করে দ্যায় কেননা জনসাধারণ চাইছিলেন যে হায়দ্রাবাদের ভারতে অন্তর্ভুক্ত হোক।
স্থানীয় জনসাধারন যখন উদ্বাস্তু হয়ে তামিলনাডু এবং অন্ধ্রে চলে আসা সুরু করল তখন
১৯৪৮ সালে ভারতীয় সেনা হায়দ্রাবাদ অভিমুখে কুচ শুরু করে এবং চার দিনের মধ্যে
নিজামী সেনা আত্মসমর্পন করে।
১৯৪৮ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত হায়দ্রাবাদ এক আলাদা প্রদেশ
হিসাবে ভারতে থাকে। ১৯৫৮ সালে সমগ্র ভারতে ভাষার উপরে প্রদেশের শ্রেণি বিন্যাস হলে
হায়দ্রাবাদের বিলুপ্তি ঘটে। হায়দ্রাবাদকে ভেঙ্গে অন্ধ্র প্রদেশ তৈরী হয়। নিজামের
হায়দ্রাবাদের মারাঠিভাষী অঞ্চল মহারাষ্ট্রে এবং কন্নড় ভাষী অঞ্চল কর্নাটকে
সম্মিলিত হয়।
আতি সম্প্রতি অন্ধ্র প্রদেশ আবার ভেঙ্গে তেলেঙ্গানা এবং
সীমান্ধ্র দুটি প্রদেশের সৃষ্টি করা হয়াছে।
শনিবার, ১ মার্চ, ২০১৪
বাংলার ইতিহাস (২য় খন্ড)
গুপ্ত যুগের আগে বাংলা দেশের সম্বন্ধে ঐতিহাসিকদের
লেখা বিশেষ কিছু পাওয়া যায় নি। যা পাওয়া গেছে সেগুলো হচ্ছে কিছু কাব্য এবং লোককথার
মধ্যে দিয়ে ইতিহাসের টুকরো। দ্বিতীয় সমুদ্রগুপ্তের বাংলা রাজ্য জয়ের সময়ে বাংলা
দেশ দুটো রাজ্যে বিভক্ত ছিল। পুস্কর্ণ এবং সমতট। পুস্কর্ণ কে আমরা পাই বর্তমান
বাকুড়া জেলায় শুশুনিয়ার উত্তর পুর্বে,
সমতট ছিল পূর্ব বাংলায়। পুস্কর্ণের রাজা সিংহবর্মণ এবং তার ছেলে
চন্দ্রবর্মণের সময় তার রাজ্যের পুর্ব সীমা ফরিদপুর জেলা অবধি ছিল। সমতট রাষ্ট্রে
খৃষ্টীয় ৫০৫ সাল নাগাদ আমরা পাই যে বৈন্যগুপ্ত স্বাধীন ভাবে সমতটে রাজত্ব করছেন এই
সময় যশোহরবর্ধনের আক্রমনে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন হয়।
ষষ্ট শতাব্দীতে মহাসেনগুপ্তের সময় গুপ্ত বংশের পতনের
পরে গুপ্ত সাম্রাজ্য বাংলা দেশে টুকরো
টুকরো হয়ে যায়। বঙ্গ, সমতট, হরিকেলা, গৌড়,
বাঙ্গালা এবং কর্ণসুবর্ণ ইত্যাদি নামে। আমরা বর্তমান
মানচিত্রে যদি এই রাষ্ট্রগুলিকে বসাই তবে তাদের অবস্থান এই ভাবে আমরা পাব যদিও
নানান লেখনের এবং পরিব্রাজকদের মতের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য পাওয়া যায়।
গৌড় রাষ্ট্রের স্থান নির্ণয়
করতে গিয়ে আমরা দেখতে পাই মৌখরি রাজা ইশানবর্মন গৌড় জয় করার সময় গৌড়ীয়দের সমুদ্রে
আশ্রয় নিতে বাধ্য করেন, এর থেকে আমরা অনুমান করতে পারি গৌড় রাষ্ট্র দক্ষিনে সমুদ্র
পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।আবার সমসাময়িক লেখন বরাহমিহিরের বিরাট সংহিতাতে আমরা গৌড়ের
সাথে সমতট, তাম্রলিপ্তি, পৌণ্ড্র রাজ্যের নাম এক সাথে পাই। কিছু কিছু জায়গাতে আমরা
আবার বঙ্গ এবং গৌড়ের নাম একসাথে উল্লেখ পাই। ভবিষ্যপুরানে আমরা গৌড়কে দেখতে পাই
বর্তমান বর্ধমানের উত্তরে এবং পদ্মা নদীর দক্ষিনে।
ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী বঙ্গ রাষ্ট্রের সীমানা আর্য সভ্যতার বাইরে ছিল।
কালিদাসের কাব্যে বঙ্গ রাষ্ট্রকে গঙ্গার অববাহিকাতে বলা হয়েছে। কিছু জৈন শাস্ত্র অনুযায়ী
ভাগীরথির পশ্চিম পারের তাম্রলিপ্তি (বর্তমান তমলুক) বঙ্গ রাষ্ট্রের অন্তর্গত
ছিল যদিও কিছু কিছু জায়গাতে তাম্রলিপ্তিকে
এক আলাদা রাষ্ট্র বলা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গ রাষ্ট্রের শাসন সাধারণত গঙ্গার পুর্ব
দিকেই ছিল। খৃষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে উপবঙ্গ এলাকা বিস্তার যশহর পর্যন্ত বলে
দিগ্বিজয়-প্রকাশেবলা হয়েছে। কারুর মতে বঙ্গ
রাষ্ট্রের বিস্তার শ্রীহট্ট জেলা পর্যন্ত
ছিল।
হুয়েনসাং এর বর্ণনা অনুযায়ী
সমতটের স্থান আমরা পাই কামরূপের (আসামের) দক্ষিনে এক নাবাল জমির এলাকা যেটা সমূদ্র
পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এর রাজধানী ছিল কার্মান্তা তে (বর্তমান বাংলাদেসের কুমিল্লা
জেলায়)। এর থেকে অনুমান করা হচ্ছে সে সমতট রাষ্ট্র ছিল বাংলা দেশের কুমিল্লার
টিপেরা
হরিকেলার স্থান নির্ণয় করা একটু মুশকিলের।
যাদব-প্রকাশ গ্রন্থে হরিকেলী এবং বঙ্গ দুটোকে এক সাথে বলা হয়েছে , আবার
মঞ্জুরী-মূলকল্প তে গৌড়, বঙ্গ এবং হরিকেলা আলাদা ভাবে বলে হয়েছে। কিছু চৈনিক
পরিব্রাজকদের মতে হরিকেলার স্থান বলা হয়েছে সমতট এবং উড়িশ্যার মধ্যে উপকূলবর্তী
অঞ্চল। আবার কীর্তিসারের রুদ্রাক্ষ মাহাত্ম তে আমার পাই যে হরিকেলা শ্রীহট্ট দেশে।
রূপচিন্তামণি লেখনের হিসাবেও হরিকেলা র
স্থান ছিল বর্তমান শ্রীহট্ট জেলার অঞ্চল।অতএব আমরা ধরে নিতে পারি যে বর্তমান বাংলা
দেশের শ্রীহট্ট এবং আসামের কাছাড় এলাকাতে হরিকেলা রাষ্ট্র ছিল।
এই সাথে আমরা আর একটি নাম
পাই চন্দ্রদ্বীপ। ডক্টর পি সি বাগচীর মতে বাংলা দেশের সমস্ত উপকুল এলাকার
দ্বীপসমুহকে (সন্দীপ সমেত) চন্দ্রদ্বীপ বলা হত।
আরও দুটি নাম আমরা পাই
পুন্ড্র বা পৌণ্ড্র এবং বারেন্দ্র। পুন্ড্র রাষ্ট্রের অবস্থান সম্বন্ধে বলা হচ্ছে
এটি কোশি নদীর তীরে অবস্থিত। এখানে এটুকু বলে নেওয়া দরকার যে কোশী আগে গঙ্গার
উপনদীর বদলে ব্রহ্মপুত্রর উপনদী ছিল। অর্থাৎ কোশী উত্তর বঙ্গ দিয়ে প্রবাহিত হত।
ক্রমশ এই নদী পশ্চিমদিকে সরে গেছে এবং একন গাঙ্গার সাথে গিয়ে বিহারে মিলিত হয়েছে।
কাজেই দেখা যাচ্ছে যে পুন্ড্র বা পৌণ্ড্র বা পৌন্ড্রবর্ধন রাষ্ট্র উত্তর বঙ্গে
গঙ্গা এবং করতোয়া নদীর মাঝখানে ছিল। বারেন্দ্রভূমি বা বারেব্দ্র রাষ্ট্র সম্বন্ধে
আমরা একে পৌণ্ড্রবর্ধনের অন্তর্গত পাই কিন্তু আবার একে পুর্ব বাংলার বগুড়া, রাজসাহী
এবং ফরিদপুর জেলা জুড়ে অবস্থিত দেখি।
তাম্রলিপ্তির উল্লেখ আমরা
মহাভারতের সভাপর্বে পাই যেখানে একে বাংলা এবং সুমা রাষ্ট্রের থেকে আলাদা করে
উল্লেখ করা হচ্ছে। আবার পরে একে আমরা বঙ্গ এবং সুমার অন্তর্গত অবস্থাতে পাই। এর
স্থান আমরা পাই মেদিনীপুর জেলার উপকূলবর্তী অঞ্চলে। রাজধানী তাম্রলিপ্ত বা তমলুক
ছিল।
এবার আমরা পাচ্ছি একটি
রাষ্ট্রের নাম বেঙ্গল বা বেঙ্গালা বা বাঙ্গালা। রাষ্ট্রকূট রাজা তৃতীয় গোবিন্দের
সময় থেকেই এই রাষ্ট্রটি বঙ্গ রাষ্ট্রের
সাথে উল্লিখিত হয়েছে। এটা মনে করা হয় পর্তুগীজ নাম বেঙ্গালা বা ইংরাজী নাম বেঙ্গল
এই বেঙ্গালা রাষ্ট্রের থেকেই এসেছে।এটাও হতে পারে যে বঙ্গ রাষ্ট্রের থেকে উদ্ভব
হয়ে উপবঙ্গ, পরে বেঙ্গালা হয়েছিল। ময়নামতী কাব্যে গোপীচাদে বাঙ্গালার লোকেদের সম্বন্ধে
বলা হচ্ছে তাদের লম্বা দাড়ি আছে এবং তারা ভাটীর দেশ থেকে এসেছে। ভাটী বলতে আমরা
নদীর ভাটী এলাকা বুঝি এবং তিব্বতীয় লামা তারানাথের মত অনুযায়ী ভাটী হচ্ছে গঙ্গার মোহানার
নীচু অঞ্চল, মুলতঃ খুলনা এবং বরিশাল জেলার সুন্দরবন এলাকা। আবুল ফজলের লেখাতে আমরা
যে আলের উল্লেখ পাই সেই আল দিয়ে সমূদ্রের জল আটকানো এখনও সুন্দরবন এলাকাতে হয়।
এই খানে একটা কথা বলে নিই,
পশ্চিমবঙ্গের লোকে যে পুর্ব বঙ্গের অধিবাসীদের বাঙ্গাল নামে অভিহিত করে সেটার
উৎপত্তি খুব সম্ভবত এই বাঙ্গালা দেশের বাঙ্গাল নামের অধিবাসী থেকে।
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পরে
রাজা হিসাবে আমরা পাই রাজা শশাঙ্কের নাম। রাজা শশাঙ্ক আবার তার রাজত্বকালে গৌড়
এর সাথে বঙ্গ এবং সমতটকে এক করেন। রাজধানী হয় কর্ণ সুবর্ণ । কনৌজের রাজা হর্ষবর্ধনের বোন রাজ্যশ্রীর স্বামী
গ্রহবর্মনকে মালবার রাজা হত্যা করলে রাজ্যশ্রী বন্দী হন। রাজ্যবর্ধন তাঁকে উদ্ধার
করতে গিয়ে শশাঙ্কের হাতে নিহত হন। শশাঙ্কের অধীনে কনৌজ আসে। হর্ষবর্ধন শশাঙ্কের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন এবং কনৌজ দখল করেন। এই সময় কামরুপের রাজা, শশাকের ভয়ে
ভীত হয়ে হর্ষবর্ধনের সাথে সন্ধি করে শশাঙ্ককে আক্রমণ করেন। রাজা শশাঙ্ক সোজা যুদ্ধে না গিয়ে তার সৈন্যদল নিয়ে পেছনে সরে আসেন।
রাজা শশাঙ্কের পরাক্রম সম্বন্ধে বলা হয় যে তার সাম্রাজ্য উড়িষ্যা পার হয়ে বর্তমান
অন্ধ্র পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। শশাঙ্কের মৃত্যুর পরে হর্ষবর্ধন তার রাজ্য দখল করেন
যদিও এটা মানা হয় যে পদ্মানদীর পুর্ব এবং দক্ষিণ অঞ্চলে হর্ষবর্ধনের কোন
প্রতিপত্তি ছিল না। হর্ষবর্ধনের সাথে পুলকেশি দ্বিতীয়ের যুদ্ধের পরে হর্ষবর্ধনের
রাজ্য দুভাগ হয়ে যায় এবং তার কিছুদিন পরে হর্ষবর্ধনের মৃত্যু হলে বাংলা দেশে বৌদ্ধ
ধর্ম এবং ব্রাহ্মন্যবাদের মধ্যে বিবাদ প্রকট হয়।
শশাঙ্কের নৃত্যুর পরে আমরা গৌড়ে এক জয়নাগ রাজার নাম
পাই। তার বংশের বিস্তারিত কিছু না জানা
গেলেও তিনি মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহন করে কর্ণ সুবর্ন জয় করে রাজ্যের বিস্তার
করেন। রাজ্যের সীমা সম্বন্ধে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পরে বঙ্গ দেশ বা বর্তমান পুর্ববঙ্গে
কিছু ব্রাহ্মণ রাজাদের শাসনের খবর পাওয়া যায়। শীলভদ্র এই রকম এক ব্রাহ্মণ রাজবংশের
ছিলেন, কিন্তু তাদের উপর হিমালয়ের এলাকার এক শৈল বংশীয় রাজার আক্রমনের কথা জানা
যায়। যশোবর্মন খৃষ্টীয় ৭২৫ থেকে ৭৩৫ পর্যন্ত গৌড়ের শাসন করার পরে গৌড় কাশ্মীরের
রাজা ললিতাদিত্যের অধীনে চলে আসে।এই সময়ে কয়েকজন সামন্ত রাজার নাম আমরা পাই যারা
বঙ্গ দেশে শাসন করছিলেন যেমন জীবধরণ, এবং শ্রীধরণ। এদের সাথে লোকনাথ এবং জয়াতুঙ্গবর্ষ এদের দুজনের নাম পাওয়া যায়,
কাজেই মনে হয় সমস্ত রাজ্যের শাসন কারুর একার হাতে না থেকে ছোট ছোট এলাকার শাসন এরা
করছিলেন।
সপ্তম শতাব্দী মধ্যভাগ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগ
পর্যন্ত এক তিব্বতীয় বর্ণনা অনুযায়ী এক চন্দ্র বংশ বঙ্গ দেশে শাসন করছিলেন, তাদের
দুজনের নাম আমরা পেয়েছি, গোবিন্দচন্দ্র
এবং ললিতচন্দ্র। মোটামুটি ভাবে বলা যায় শশাঙ্কের নৃত্যুর পরে গৌড় এবং বঙ্গদেশের
শাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছিল এবং ছোট ছোট সামন্তের শাসন চলছিল বা বহিরাগতদের
আক্রমণ হচ্ছিল।
খৃষ্টীয় ৭৫০ সালে গোপাল প্রথম নির্বাচিত প্রধান
হিসাবে বৌদ্ধ রাজতন্ত্রের বা পাল বংশের পত্তন করেন। তার পরে ধর্মপাল এবং দেবপালের
সময় পাল বংশের রাজ্যের বিস্তার ঘটে।
ধর্মপালের সময় বর্তমান বাংলা এবং বিহার তার নিজের শাসনে ছিল, কনৌজে তার
আশ্রিত চক্রায়ুধ শাসন করছিলেন। তার পশ্চিমে রাজপুতানা এবং পাঞ্জাবে ধর্মপালের
আশ্রিত রাজাদের শাসন ছিল, উত্তরে তার অধীনে নেপাল এসেছিল।
প্রতিহার রাজা নাগভাট
দ্বিতীয়ের সাথে যুদ্ধে ধর্মপাল পরাজিত হলে রাষ্ট্রকূট রাজা তৃতীয় গোবিন্দের
সহায়তায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান, ফলে ধর্মপাল গোবিন্দ তৃতীয়ের বশ্যতা স্বীকার করে
নেন। কিছুদিনের মধ্যে গোবিন্দ আবার ধর্মপালকে তার রাজ্য ফেরত দিয়ে দক্ষিনাত্যে
ফিরে যান।
ধর্মপালের মৃত্যুর পরে তার পুত্র দেবপাল রাজা হন।
দেবপালের সনয় গৌড়ের পাল বংশের রাজ্যসীমা পশ্চিমে আফগানিস্থান, পুর্বে প্রাগজ্যোতিষ
এবং দক্ষিণে উতকল পার হয়ে দ্রাবিড় অঞ্চল।
দেবপালের মৃত্যুর পরে কিছুদিন পাল বংশের গরিমা স্থিমিত হয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ
মাথা চারা দ্যায়।
পরবর্তী রাজা প্রথম মহীপাল আবার পাল বংশের রাজ্যের টুকরোগুলিকে
একত্রিত করেন, কিন্তু মহীপালের মৃত্যুর পরে আবার পাল রাজ্যের অবনতি শুরু হয় পরে
রাজা রামপাল এসে আবার পাল বংশের গরিমার পুনরুদ্ধার করেন।
উতকলের গঙ্গা বংশের রাজা অনঙ্গ ভীমদেবের কাছে
রামপালের পরাজয়ের পরে গঙ্গা বংশের রাজ্যের সীমা হুগলী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পাল
রাজতন্ত্রের অবনতি হতে থাকে। বর্তমান বাংলা ভাষার আদিম কাব্য চর্যাপদের রচনা এই
পাল বংশের সময়ে।
পাল বংশের রাজত্বের সময় আমরা জিমুতবাহনের নাম পাই
যিনি ধর্মশাস্ত্রে দায়ভাগ এবং স্ত্রীধনের প্রণয়ন করেন। জীমুতবাহনের অন্য দুটি
গ্রন্থের এমটি হল বিচার ব্যবস্থা সম্বন্ধে ব্যবহারমাত্রিকা এবং অন্যটি হচ্ছে
ধার্মিক আচার সঙ্ক্রান্ত গ্রন্থ কালবিবেক। দেবপালের মন্ত্রী দর্ভপানী এবং তার
পুত্র পৌত্রদের বেদ, আগম , নীতি এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রে পারদর্শি বলে জানা যায়। রাজা
ধর্মপালের সময়ে বারেন্দ্র ব্রাহ্মনেরা
শ্রুতি, স্মৃতি, পুরান, ব্যাকরণ
এবং কাব্যে পারদর্শী ছিলেন বলে জানা যায়।
সাহিত্যে সন্ধ্যাকারানন্দির লেখা রামচরিতমানসের
উল্লেখ আমরা পাই যেখানে একদিকে রামায়নের বর্ননা করা হয়েছে আর অন্য দিকে তার সাথে
রাজা রামপালের গুণকীর্তন করা হয়েছে।
চরক এবং শুশ্রুতের ব্যাখ্যাকার চক্রপাণিদত্ত এবং
ভেষজশাস্ত্রে উদ্ভিদ সম্বন্ধীয় গ্রন্থ শব্দ-প্রদীপের লেখক সুরেশ্বর বা সুরপাল ,
এবং চিকিৎসা-সার-সংগ্রহের লেখক বঙ্গসেনা
এই পাল রাজত্বের সময় ছিলেন।
রাজা ধর্মপালের সময় বাংলা ভাষার আদি রূপ “প্রোটো-বেঙ্গলী” র উদ্ভব হয় এবং
এই ভাষাতেই বৌদ্ধ তান্ত্রিকেরা চর্যাপদের সৃষ্টি করেন।
যদিও সামন্তসেন বর্তমান বর্ধমান জেলায় রাধা রাষ্ট্র
জয় করে তার রাজত্বের পত্তন করেন কিন্তু সামন্তসেনের পৌত্র বিজয়সেন আসল সেন বংশের
প্রতিষ্ঠাতা। কর্ণাটক থেকে আগত চালুক্য রাজা তৃতীয় বিক্রমাদিত্যের সেনা দলের
সামন্তসেন ব্রহ্ম-ক্ষত্রিয় বলে মনে করা
হলেও তিনি ব্রাহ্মন ছিলেন, এবং তার উত্তরাধিকারীরা রাজধর্ম পালনের জন্য
ব্রহ্ম-ক্ষত্রিয় বলে পরিচিত হন।
খৃষ্টিয় দ্বাদশ শতাব্দীতে বিজয় সেন, পাল বংশের রাজা
মদন পালকে হারি্যে সেন বংশের গরিমার প্রতিষ্ঠা করেন। গৌড়, মিথিলা, কামরূপ এবং
কলিঙ্গ জয় করে তার বিশাল সাম্রাজ্যের সৃষ্টি করেন। আবার বাংলা দেশে বৌদ্ধ ধর্মের
অবনতি হতে থেকে এবং ব্রাহ্মণ্যবাদের শক্তি মাথা চারা দ্যায়। রাজা বল্লাল সেন তার
রাজধানী গৌড় থেকে তুলে নবদ্বীপে নিয়ে আসেন।
তার রাজ্যের সীমানা সম্বন্ধে জানা যায় যে বঙ্গ, বারেন্দ্র, রাধা, বাগদী এবং
মিথিলা তার রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। বর্তমান সুন্দরবন অঞ্চল ছিল বাগদীনামে এবং উত্তর
বঙ্গ ছিল বারেন্দ্র নামে।।
বল্লালসেনের লিখিত দানসাগর এবং অদ্ভুতসাগর দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ। দানসাগর
লেখা হয়েছিল দান দেবার কারণ, উপায়, সামগ্রী ইত্যাদি সম্বন্ধে এবং অদ্ভুতসাগর নানান সংস্কার
এবং তার প্রতিকার সম্বন্ধে। দ্বিতীয় গ্রন্থটি লেখা বল্লালসেন শুরু করলেও শেষ করেন
তার পুত্র লক্ষনসেন। বল্লাল সেন বাংলা দেশে বর্ণভেদ প্রথার প্রচলন করেন।
বল্লাল সেনের পুত্র রাজা লক্ষন সেনের সময়
মহম্মদ ঘোরীর সেনাপতি বখতিয়ার খিলজীর আক্রমণ হলে লক্ষনসেন পালিয়ে ঢাকাতে চলে যান।
ঢাকার বিক্রমপুর অঞ্চল (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) তার রাজধানী হয়। এই সেন বংশের সময়
আবার সংস্কৃত ভাষার পুনঃপ্রসার ঘটে। লক্ষনসেন
কে বাংলা বিক্রমাদিত্য বলা হয়। তার সভাতে গোবর্ধন, সারন, উমাপতি এবং কবিরাজ এবন জয়দেব পঞ্চরত্ন হিসাবে ছিলেন। গীত গোবিন্দ
লেখক কবি জয়দেব রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি ছিলেন। লক্ষনসেনের মন্ত্রী হলায়ুধের লেখা
ব্রহ্মণ্য-সর্বস্ব, মীমাংসা-সর্বস্ব, বৈষ্ণব-সর্বস্ব, শৈব-সর্বস্ব, এবং
পন্ডিত-সর্বস্ব উল্লেখযোগ্য।এর মধ্যে
একমাত্র ব্রহ্মন্য-সর্বস্ব ছাড়া বাকী গুলি কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে।
ব্রহ্মন্য-সর্বস্বতে বেদের মন্ত্রগুলি দৈনিক ব্যবহারের ব্যখ্যা করা হয়েছে।
সেন বংশের অস্তিত্ব খৃষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি মিলিয়ে যায়। যদিও আমরা
পরে এক দেব বংশের কথা এই বিক্রমপুর অঞ্চলে পাই। এদের শাসন পুর্বদিকে চট্টগ্রাম
থেকে পশ্চিমে কুমিল্লা অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দেব বংশের শেষ ইতিহাস কিছু
পাওয়া যায় নি।
এর পরে বাংলা দেশে মুসলিম শাসনের কথা আসে। সেটা পরের
খন্ডে লিখছি।
এই লেখার জন্য শ্রী আর সি মজুমদারের হিস্টোরি অফ এন্সেন্ট বেঙ্গল,
এবং শ্রী শৈলেন সেনের লিখিত এনসেন্ট
ইন্ডিয়ান হিস্টরি এন্ড সিভিলাইজেশন এর সাথে ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়েছি।
বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
বাংলার ইতিহাস (১ম খন্ড)
আমরা মহাভারতে পড়েছি অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ দেশের কথা, যারা কুরুক্ষত্রের
যুদ্ধে পান্ডব বা কৌরবদের পক্ষ নিয়ে লড়েছিল। কিন্তু এই জায়গা গুলো কোথায় ছিল? আমরা
মগধ, কৌশালী এই সব রাষ্ট্রের নাম সহজে বুঝে তাদের স্থান নির্দেশ করতে পারি। বঙ্গ
দেশ বলতে আমরা বাঙ্গলা দেশ হয়তো মনে করতে পারি কিন্তু তাহলে অঙ্গ দেশ কোথায় ছিল?
আসলে অঙ্গ, বঙ্গ এবং সুমা এই তিনটে রাজ্যের নাম আমরা পাই খৃষ্ট পুর্ব একাদশ
শতাব্দীতে, যাতে এদের স্থান নির্দেশ করা হচ্ছে আর্য সভ্যতার সীমানার বাইরে, এবং
সেই অনুযায়ী আমরা অঙ্গ রাজ্যকে পাচ্ছি উত্তর বাংলাতে, বঙ্গ রাজ্য কে পাচ্ছি দক্ষিন
বাংলাতে এবং সুমা রাজ্যকে পাচ্ছি পশ্চিম বাংলার এলাকাতে। এখানে প্রথমেই একটা কথা
মনে রাখা দরকার যে বাংলা বলতে কিন্তু আমি অবিভক্ত বাঙ্গলার কথা সব সময় বলছি।
বৈদিক যুগে আর্যরা এই তিনটি দেশের সাথে আরও একটি দেশের কথা উল্লেখ করেছিলেন
যেটি হচ্ছে পুন্ড্র বা পৌণ্ড্র রাজ্য। সেই সময় বলা হচ্ছে যে এই রাজ্য গুলি নিষাদ
সম্প্রদায়ের অধীনে এবং আর্যেরা এই সব জায়গাতে এলে পরে ফিরে গিয়ে নিজেদের শুদ্ধিকরণ
করতেন। মহাভারতের কথা অনুযায়ী ঋষি উতথ্যের পুত্র ছিলেন দীর্ঘতামস। দীর্ঘতামস এবং
রাজা বলীর রানী সুদেষ্ণার তিন পুত্র অঙ্গ, বঙ্গ এবং কলিঙ্গ। এই তিন জন তিন রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
ভাষা হিসাবে এই সব জায়গাতে দ্রাবিড়ীয় ভাষা এবং তিব্বতীয়-বর্মী ভাষার
সংমিশ্রণ ভাষার প্রচলন ছিল। এই সব ভাষার
কিছু নিদর্শন আমরা কিন্তু এখনও কোল, ভীল, সাওতালী ভাষার মধ্যে দেখতে পাই।
আবুল ফজলের মতানুযায়ী বঙ্গ দেশের নাম ছিল বাং। তখনকার দিনে রাজত্বের সীমানা
নির্ধারণ করে উচু মাটির দেয়াল দিয়ে গিরে রাখা হত যাকে বলা হত আল। আমরা এখনও ক্ষেতের
সীমানা নির্ধারনের জন্য এই আলের ব্যবহার করি। বাং শব্দের সাথে আল শব্দ যোগ করে বাঙ্গাল শব্দ এসেছে , যেটার থেকে
বাংলা ভাষা নাম হয়েছে।
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে বাংলা ভাষা আদি অবস্থাতে ওড়িয়া এবং আসামী
ভাষার সাথে একত্রিত বা মিশ্রিত ছিল। তার থেকে প্রথমে ওড়িয়া এবং তার পরে আসামী ভাষা
আলাদা হয়ে যায়। এই কারণেই চর্যাপদকে
বাংলার সাথে আসামী এবং ওড়িয়া ভাষাবিদেরা তাদের আদি অবস্থা বলে মেনে নেন।
শ্রী সুনীতি কুমার চ্যাটার্জীর মতে বাংলা মগহী প্রাকৃত থেকে মগহী অপভ্রংশ
হিসাবে খৃষ্টীয় দশম শতাব্দীতে উৎপন্ন হয়েছিল। আবার মহম্মদ শাহিদুল্লার মতে খৃষ্টীয়
সপ্তম শতাব্দীতে গৌড়ীয় ভাষা থেকে উৎপন্ন হায়েছিল।
ব্যকরণগত দিক থেকে যদিও বাংলা ভাষা ইন্দোইউরোপীয় ভাষা, তবুও এর উপরে
দ্রাবিড়ীয় এবং তিব্বতী-বর্মী ভাষার প্রভাব সুস্পষ্ট ভাবে পড়েছে।
এবার আমরা দেখতে থাকি একে একে এই রাজ্যগুলির সম্বন্ধে আমরা কি জানতে
পেরেছি। প্রথমে আমরা নিচ্ছি পৌণ্ড্র দেশ কে। বর্তমান বাংলা দেশ থেক শুরু করে
বর্তমান বিহারের পূর্ণিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এই রাজ্য।
মৎস্য দেশের লোকেদের ধারণা ছিল যে পৌণ্ড্র দেশের লোকেরা ম্লেচ্ছ এবং তারা
ক্ষত্রিয় থেকে শূদ্র জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে এবং
বৈদিক সংস্কৃতির বাইরে আছে। মহাভারতে আমরা পৌণ্ড্র রাজা পৌণ্ড্রক বাসুদেবের
নাম পাই, যিনি জরাসন্ধের সাথে কৌরবদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। ইনি কৃষ্ণ বাসুদেবের
হাতে মারা যান।
সুমা রাজ্য সম্পর্কে আমরা বিশেষ করে কিছু জানিনা, তবে পান্ডুপুত্র ভীম এবং
অর্জুন, সুমা এবং পার্শ্ববর্তী প্রসুমা রাজ্য দুটিকে জয় করেছিলেন। সুমার অবস্থান
ছিল উত্তর-পশ্চিম বাংলা এবং বিহারের কিছু অংশ।
এবার আমরা দেখি অঙ্গ রাজ্য সম্বন্ধে কি জানতে পারা গেছে। অঙ্গ রাজ্যের
অবস্থান ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ, তরাই অঞ্চল, নেপাল এবং ঝাড়খন্ডের সাথে পুর্ব
বিহার। বাল্মিকী রামায়ণের বাল কান্ডে বলা হয়েছে যে ইক্ষাকু বশের রাজা দশরথের কন্যা
শান্তা কে অঙ্গদেশের রাজা রমাপদ (একে
অনেকে চিত্ররথ নামেও জানেন) দত্তক হিসাবে নেন, এবং ঋষী ঋষ্যশৃঙ্গর সাথে শান্তার
বিবাহ হয়। এই ঋষ্যশৃঙ্গ ঋষি পরে রাজা দশরথের পুত্রেষ্ঠি যজ্ঞের পুরোহিত ছিলেন।
অবশ্য এর জন্য দশরথের কুলপুরোহিত বশিষ্ঠের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। বৈদিক সংস্কৃতি এই
অঙ্গ রাজ্যের সীমানা পর্যন্ত এসেছিল।
মহাভারতে যেখানে কর্ণ রাজা নন বলে অর্জুন তার সাথে শক্তি পরীক্ষায় রাজী
হচ্ছেন না সেখানে দুর্যোধন তাঁকে অঙ্গ রাজ্যের রাজা বলে অভিষিক্ত করেছেন। আবার পরে কর্ণ কে অঙ্গ এবং বঙ্গ দুই রাজ্যের
রাজা বলা হয়েছে ।
এবারে আমরা আসি বঙ্গ রাজ্যে। বঙ্গ দেশের নাম কি করে বঙ্গ হল তা নিয়ে কিছু
সন্দেহ আছে। কারুর মতে বোঙ্গা অর্থাৎ
সূর্যদেবের পুজারী হিসাবে এখানকার অধিবাসীদের জন্য জায়গার নাম বোঙ্গা থেকে বঙ্গ হয়েছে।
আবার কারুর মতে বঙ্গ কথাটা এসেছে ভঙ্গ থেকে। আগেই বলেছি আবুল ফজলের মতে জায়গাটার
নাম ছিল বাঙ্গ। বঙ্গ রাজ্য ছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে। এখানকার অধিবাসীদের
সম্বন্ধে বলা হয়েছে এরা সমুদ্রের দক্ষ নাবিক ছিলেন। মহাভারতে বলা হয়েছে যে এখানকার অধিবাসীরা যুদ্ধে ব্যবহৃত
হাতীদের চালানতে দক্ষ ছিলেন।
রামায়ণে বলা হয়েছ যে রাম অঙ্গ,
বঙ্গ, কলিঙ্গ জয় করেছিলেন। আবার মহাভারতে অর্জুনের বনবাসের সময় বঙ্গ দেশে আসার কথা
বলা আছে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বঙ্গ দেশ কৌরবদের সাথে যোগ দিয়েছিল। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বঙ্গ দেশের রাজা ভগদত্তর
সাথে ঘটোৎকচের যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে যেখানে ভগদত্ত তার পাহাড় প্রমাণ মাপের হাতী
দিয়ে দুর্যোধনের রথকে ঘটোৎকচের দৃষ্টির আড়ালে রাখছিলেন।
আবার বঙ্গ দেশের রাজা বিজয় সিংহের খৃষ্ট পুর্ব ৫৪৪ সালে সিংহল জয়ের কথা
আমরা মহাবংশতে পাই। শ্যাম মালয়, ইন্দোনেশিয়াতে বঙ্গদেশের অভিযানের কথা আমরা এই
সমস্ত আখ্যানে পাই।
খৃষ্ট পুর্ব ষষ্ট এবং পঞ্চম শতাব্দিতে আমরা কিন্তু গঙ্গাঋদ্ধি নামে এক
রাজ্যর কথা দেখতে পাই যেটা ছিল বর্তমান
পশিম বঙ্গ এবং বাংলদেশের এলাকাতে। এর উল্লেখ আমরা পাই মেগাস্থিনিসের খৃষ্ট পুর্ব
চতুর্থ শতাব্দীর লেখায়। টলেমীর লেখাতে আমরা পাচ্ছি যে গঙ্গাঋদ্ধি রাজ্য গঙ্গার মোহানাতে
অবস্থিত।
ডক্টর আর সি মজুমদারের
লিখিত পুস্তকে ডিওডোরাস সিকুলাসের বৃতান্ত থেকে আমরা জানতে পারি রাজা পুরুর ভাগ্নে
আলেক্সান্ডারের আগমনের কথা শুনে রাজ্য ছেড়ে গঙ্গাঋদ্ধিতে পালিয়ে গেছেন এবং
আলেক্সান্ডার তার পেছনে তাড়া করেন নি কারন ছিল গঙ্গাঋদ্ধি রাজ্যের সৈন্য বলের
ক্ষমতা, যাতে কম করে ৪০০০ হাতী এবং ২০০০০ অশ্বারোহী সেনা, এবং ২০০০০০ পদাতিক
সৈন্য ছিল এবং রাজ্যের পশ্চিম সীমা দিয়া
গঙ্গা নদী ছিল যা আলেক্সান্দারের পক্ষে অতিক্রম করা সহজ বলে মনে হয় নি।
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের
সময় এই গঙ্গাঋদ্ধি বা গঙ্গারদেহি রাজ্য কলিঙ্গ রাজ্যের সাথে এক হয়ে তাদের
সাম্রাজ্য চেন্নাই পর্যন্ত বিস্তার করে। কিন্তু এই গঙ্গাঋদ্ধি রাজ্যের রাজধানী
সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় নি। অনুমান করা হচ্ছে যে বর্তমান চন্দ্রকেতুগড় ছিল
রাজধানী।
এবার আমরা আসছি ইতিহাসের
বাংলা দেশের কথায়। সবাই এটা হয়তো মনে করছেন যে উপরের লেখাটুকুর সাথে ইতিহাসের কোন
সংস্রব নেই। তা নয়। ইতিহাস একথা মেনেছে যে মহাভারতের যুদ্ধ হয়েছিল এবা তাতে সারা
ভারতবর্ষের রাজ্যগুলি বিশেষতঃ দাক্ষিনাত্য বাদ দিয়ে বাকিটা যোগ দিয়েছিল, এবং
আলেক্সান্ডার ভারত জয়ে বেড়িয়ে পুর্ব ভারত থেকে ফিরে যান।
বাকীটা পরে লিখছি।…….
লেখার জন্য ইন্টারনেট, কৃত্তিবাসী রামায়ন এবং
কাশীদাসী মহাভারতের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)