বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১২

আমার কলেজ ও ট্রেনিং




আমার যৌবন 
১৯৫৪-৫৯
১৯৫৪ এ কর্পোরেশনে এপ্রেন্টিস হিসাবে শুরু করার পড়ে প্রথম পাঁচ বছরের ডিউটি ছিল সোম আর মঙ্গলবার সকালে শেয়ালদা থেকে ট্রেন ধরে যাদবপুর যাওয়া। বড় মামার সম্পত্তি হিসাবে তাঁর ড্রয়িং বক্স আর টি বাড়ীতে ছিল। ১৯৩১-৩২ সালে ট্রেনে লোকের ভীড় হতনা তাই বিশাল টি নিয়ে যাতায়াত করতে কোন অসুবিধা ছিল না। কিন্তু ২২ বছর বাদে, ওটাকে নিয়ে বাস বা ট্রেনে চড়া বেশ কষ্টকর ছিল। আজকের মত ফোল্ডিং টি বা ছোট টি ছিল না। কোয়ার্টারলি সীজন টিকিট কেটে যাতায়াত করতাম। কলেজের উল্টোদিকে ষ্টেশন রোডের উপর চায়ের দোকানে পাউরুটি আর আলুর দম ছিল টিফিন। যদি ড্রয়িং ক্লাস না থাকতো তা হলে বাসেও যেতাম। বাড়ীর বাছে বিবেকানন্দ রোড থেকে ৮বি দোতলা বাস সোজা যাদবপুরে নিয়ে যেত। অন্য কদিন ঐ ৮বি ধরেই এন্টালী মোড়ে নেমে ওয়ার্কশপ। সকাল ৮ টা থেকে বিকেল পাচটা। মজার কথা আমরা এপ্রেন্টিশ হলেও আমাদের জন্য কোন মেশিন খালি ছিল না। আর ওয়ার্কারদের আউটপুট এর উপর বোনাস হত বলে তারা মেশিন ছাড়তেও নারাজ থাকত। দাদা কাকা বলে তেল মেরে মেশিন পেতাম। এটা ম্যানেজারকে বলেও কোন সুরাহা হয় নি।
যেহেতু সকাল বেলায় লাঞ্চের বদলে হেভী ব্রেকফাস্ট করে যেতাম তাই টিফিন ব্রেকে ক্যান্টীন থেকে সাধারণত পাউরুটী আর আলুর দম দিয়ে টিফিন হত। যখন ওয়ার্কাররা আমাদের হাতে কাজ দিত না তখন আমাদের জন্য একটা কমন রুমের মত ঘরে টেবল টেনিস খেলায় সময় কাটত। কলেজে প্রত্যেক বছর একটা করে এক্সিহিভিশন হত। একবার ঠিক করলাম ওয়ার্কিং মডেলে লোহা গলানর কিউপোলা ফারনেস তৈরী করে দেখাব। ওয়ার্কশপে একটা বড় কিউপোলা ছিল। আমরা তার একটা ডাইন সাইজ ভার্সন তৈরী করলাম। প্রত্যেক দিন (বিকেল ৩টে থেকে রাত ৯টা পর্য্যন্ত সেটাতে প্রায় ৫০ কেজীর মতন ঢালাই করে দেখান হত। এর মধ্যে ছাঁচ তৈরিও দেখান হত। এই সময়ের একটা মজার ঘটনা বলি। একটা জলের ট্যাপকে ক্ল্যাম্পে লাগিয়ে তার মুখে এমটা ভিনাইল পাইপ লাগান হল আর তা দিয়ে টেবিলের নীচে থেকে জল পাম্প করে পাঠানোতে সেই জলটাই নলের মুখ দিয়ে নীচে পড়তে লাগলো। ট্যাপের পেছন দিকে কিছু লাগান না থাকায় লোকেরা ভাবল হাওয়া থেকে জল ধরে ট্যাপে দেওয়া হয়েছে। সাথে লেখা হয়েছিল নিউটনের ফোর্থ ল থেকে এই কাজটা করা হচ্ছে। আসলে ফোর্থ ল বলে কিছু নেই। নানা জায়গা থেকে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত জানানোর জন্য অনুরোধ এসেছিল। শেষ পর্য্যন্ত লিখে দিতে হল এটা একটা চোখের ভ্রম।

                  ওপরের ছবিটি ফ্লোরা ফাউন্টেনের ১৯৫৮ সালে গেভাবক্স ক্যামেরাতে

  ওপরের ছবিটি মুম্বাইএর গেটয়ে অফ ইন্ডিয়ার ১৯৫৮ সালে গেভাবক্স ক্যামেরাতে তোলা

                         ছবি দুটি অজন্তার গূহার গায়ে পাথর খোদাই করে সৃষ্টি করা

ওয়ার্কশপের পাশেই ছিল ফিলিপস কোম্পানির এসেম্বলী শপ। সমস্ত কর্মীই মেয়ে। ফিলিপস ছুটী হত আমাদের ছুটীর আগে। কাজেই আমাদের কাজ ছিল কমন রুমের জানলা থেকে তাদের দেখা। এই প্রথম মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতে শুরু করলাম। আমার এই সময় সুমীল বসু, আর নিশীথ পাল নামে দুই সহপাঠীর সাথে গভীর বন্ধুত্ত গড়ে ওঠে। '৫৬এর পুজার সময় আমি আর সুমীল দুজনে মিলে ঠিক করলাম একটু বম্বে ঘুরে আসব। পুনেতে ওর দিদি জামাইবাবু থাকে পুজার কদিন ওখানে কাটিয়ে ফেরার সময় বম্বে ঘুরে ফিরে আসব। পুনার পৌঁছনর পরে ওর দিদি জামাইবাবু সুমীল কে আটকাতে পারলেও আমি একাই ফেরার জন্য বেড়িয়ে পড়লাম। এই প্রথম একেবারে একা ঘুরছি
সকালে বম্বে নেমে এলিফ্যান্টা দেখে সারা দিন প্রায় কেটে গেল। সন্ধেবেলা মেরিন ড্রাইভ ইত্যাদি ঘুরে পরের দিন বম্বের ফ্লোরা ফাউন্টেন দেখে বম্বের বিখ্যাত ট্রামে চড়ে ফ্লোরা ফাউন্টেন (কালা ঘোড়া) থেকে মহালক্ষী পর্য্যন্ত ঘুরে এলাম সাথে আমার গেভাবক্স ক্যামেরা। তখনকার বম্বে (বর্তমান মুম্বাই) এর কতকগুলো ছবি দিলাম। তখন যদি জানতাম যে বম্বে থেকে ট্রাম তুলে দেওয়া হবে তবে তার ছবিও তুলে রাখতাম। রাখার ঠিক সুবিধা না থাকায় সাদা কাল ছবি গুলো আর তত পরিস্কার নেই। তবুও কয়েকটা ছবি সাথে দিলাম। রাতের ট্রেন ধরে মানমদ ষ্টেশনে গাড়ী চেঞ্জ করে আউরঙ্গাবাদ। গন্তব্য স্থল অজন্তা গুহা আর ইলোরার স্থাপত্য।
সকাল বেলা আউরঙ্গাবাদ ষ্টেশনে নেমে আশ্রয় নেয়া গেল কাছেরই এক ধর্মশালায়। এক ট্যুরিস্ট পার্টীর সাথে আলাপ, তারাও অজন্তা আর ইলোরা ঘুরতে যাবে। আউরঙ্গাবাদ থেকে ইলোরা প্রায় ৫০ মাইলের মত দূরে। একটা বাস ঠিক করে হল। সেটা আমাদের অজন্তা নিয়ে যাবে আর ফেরার পথে দৌলতাবাদের দুর্গ দেখিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।। সকাল আটটা নাগাদ বাস এসে হাজির। আমরা বাসে করে রওয়ানা দিলাম। পাহাড়ী রাস্তা ধরে প্রায় ঘন্টা দুয়েক চলার পড়ে আমরা পৌঁছলাম অজন্তার পাহাড়ের নীচে। সিড়ি ধরে উপরে উঠে পরপর ৩১টা গুহা। প্রথম দিকের গুহাগুলি ভাস্কর্য্য ও চিত্রকলায় অপুর্ব।অজন্তা দেখে আমরা ফেরের জন্য রওয়ানা দিলাম। পথে পড়ল দৌলতাবাদ কেল্লা
এই সেই পাহাড়ের উপরের অজেয় দুর্গ, যার প্রতিষ্ঠা করে ছিলেন মুহম্মদ বিন তুঘলক, যখন তিনি তার সাম্রাজ্যের রাজধানী দিল্লী থেকে দৌলতাবাদে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। পাহাড়ের গায়ে সুরঙ্গ কেটে ভেতরে যাবার রাস্তা। ঘুটঘুটে কাল অন্ধকার, পা কোথায় ফেলছি তা দেখা যায় না। গাইড বলল, এই রাস্তাতে শত্রুর আক্রমণের সময় লোহার তৈরী কাঁটা ছড়িয়ে দেওয়া হত। কাটাগুলোর একটা দিক সব সময়ই ওপরদিকে মাথা করে থাকে যাতে সেটার ওপর পা পড়লেই পায়ে ঢুকে যাবে। রাস্তায় এদিক ওদিক থেকে গলি করা আছে। ঠিক রাস্তায় না চললেই সোজা পাহাড়ের নীচে। আমাদের গাইড মশাল জ্বেলে রাস্তা দেখিয়ে উপরে নিয়ে গেছিল। সুরঙ্গটা সোজা নয় একেবেঁকে গিয়েছে যাতে ঠিক রাস্তা বার করতে অনেক সময় লেগে যাবে। রাতে আউরঙ্গাবাদে পৌঁছনর আগে আমরা বিবি-কা-মকবরা দেখতে গেলাম। সম্রাট আউরংজেব দাক্ষিণাত্যে অভিযান করার সময় ত্তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয় মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুরে। পরে আউরঙ্গাবাদে পৌঁছে তিনি তাজমহলের কপি করে তার স্ত্রীর জন্য এক সমাধিসোঁধ বানান আর বুরহানপুর থেকে মৃত স্ত্রীর দেহ তুলে নিয়ে এসে এই খানে সমাধিস্থ করেন। পরেরদিন সকালে আমরা চললাম ইলোরার ভাস্কর্য্য দেখতে। পাহাড়ের গা কেটে তিনতলা গুহা বানানো সামনে ঐ তিনতলার সমান উঁচু এক স্তম্ভ যার গায়ে অদ্ভুত কারুকার্য। এই গুহার নাম কৈলাস।। এর লিখে বিবরণ দেওয়া আমার সাধ্যের বাইরে। কিছু ফটো দিলাম আপনরাই বিচার করবেন। রাতের ট্রেন ধরে সোজা কলকাতায় ফেরত।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পড়ে পাশ করার পরে শুরু হল আমার কর্মজীবন, তারিখ টা ছিল '৫৯ সালের সেপ্টেম্বার মাস। কর্মজীবনের কথা কারুরই ভাল লাগবে না, কেননা দলাদলি, খোসামোদি, বদলী, বিবাহত্তোর সংসার, ছেলেমেয়েদের মানুষ করা প্রত্যেকের জীবনেই আছে। তাই আমার কথার এখানেই ইতি। 
                                        দউলতাবাদ দূর্গের ছবি
                              পাহাড়ের গা কেটে তিনতলা গূহার সৃষ্টি ইলোরা
                    তিন তলা গূহার চাতালে বিশাল স্তম্ভ । এটাও প্রায় তিনতলা উঁচু।
                           ইলোরার ১৩ নম্বর গূহার বারান্দায় সাথীরা দাঁড়িয়ে।
কর্মজীবনের পরের কথা গুলো হয়ত আজকের নতুন প্রজন্মকে বৃদ্ধদের বুঝতে চেষ্টা করাতে পারে। তবে সেটা ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাক। 

আমার চাকুরী জীবনের শুরু


আমার চাকুরী জীবন

          ১৯৫৯ সালের জুন মাসে আমার কর্পোরেশনের এপ্রেন্টিসশিপ শেষ হলে চাকরী খোঁজা শুরু হল। অবশ্যি ৫৮ সালেই ইউপিএসসি  ত্রিপুরা পলিটেকনিকের একটা ডিমন্সট্রেটর পদের জন্য যে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল তাতে আমি দরখাস্ত দিয়েছিলাম আর দিল্লীতে ইন্টারভিউ দিতে ডাক এসেছিল। আমার সাথে আমার এক সহপাঠী দুজনে গিয়েছিলাম দিল্লীতে। ঢোলপুর হাউসে আমাকে খালি জিজ্ঞাসা করা হল কলকাতাকে কেন সিটি অফ প্রসেশন বলা হয়। এর সোজা মানে, আমাদের লোক ঠিক করা আছে, তুমি বাড়ী যেতে পার। যাতায়াতের জন্য ট্রেনভাড়া দিয়েছিল এটাই ভাগ্যি। চেকটা হাতে নিয়ে সোজা বাড়ীর দিকে রওয়ানা হতে হবে। ইতি মধ্যে  আমাদের দিল্লী ঘুরে দেখাও হয়েছে। আমরা গিয়ে উঠেছিলাম দিল্লী কালীবাড়ীতে। একটা ঘরে আমরা দুজনে। খাওয়া কালীবাড়ীর ক্যান্টীন থেকে। যতদূর মনে পড়ছে মিল প্রতি এক টাকা নিত। মাহের ঝোল, ডাল, ভাত, চাটনী, বেগুন বা আলু ভাজা, একেবারে পেট ভরে খাওয়া। রেড ফোর্ট, কুতুব মিনার দেখে আমরা দুজনেই কলকাতায় ফিরলাম। চেকটা ভাঙ্গাতে কষ্ট পেতে হয়েছিল কেননা আমার বা বাবার ব্যাঙ্ক একাউন্ট ছিল না। সাথে আমার সাথী গেভাবক্স ক্যামেরা, সাদা কাল ফিল্ম । কুতুবের একটা ছবি এখানে দিলাম। দীর্ঘ ৫০/৫৫ বছরের কালের প্রকোপ ছবিতে পড়েছে। তাকে বাচাতে পাড়িনি।
                ছবিটা গেভাবক্স ক্যামেরাতে তোলা। ফিক্সড লেন্স আর ফিক্সড স্পীড।

          এই সময় বড়মামার সহপাঠী বীরেন ব্যানার্জীর একটা কনষ্ট্রাকশন কোম্পানিতে একটা অফার এল। ওরা তখন দুর্গাপুর ইস্পাতের কারখানা তৈরির কাজে ব্যস্ত। আমার সাথে (মাকে বলেছিল) মাইনে বা স্টাইপেন্ড হিসাবে মাসে ১০০ টাকা দেবার কথা হয়েছিল। এর সাথে থাকার জন্য জায়গা। এক সন্ধেবেলা আমি আর বীরেন ব্যানার্জী( তিনু মামু বলে ডাকতাম) দুর্গাপুরের জন্য ট্রেনে রওয়ানা দিলাম। আমি গিয়ে উঠলাম একটা টিনের শেডে (ডর্মিটরী)। সাথে একটা কম্বল ছিল। সেটা জড়িয়ে শুয়ে পড়লাম। পরের দিন আমার সহকর্মী আমাকে সকাল ৬টা তে ডেকে দিল। কাজে বেরতে হবে। পায়ে গামবুট, হাটু অবধি কাদা তার মধ্যে প্রায় দেড়/দু কিলমিটার হেটে সাইটে পৌঁছলাম। আমার কাজ হল রোলিং মিলের  বেসমেন্টে কেবল লাগান কাজের সুপারভাইস করা। দিন চারেকের মধ্যে আমাকে বলা হল কোক ওভেন প্ল্যান্টে কেবল লেয়িং আর জয়ন্টিং এর কাজ সুপারভাইস করতে। সকাল ৭টা থেকে কাজ শুরু। দুপুরে ১২টা থেকে ১টা লাঞ্চ ব্রেক। (খেতে যেতে হবে প্রায় দু থেকে আড়াই কিলমিটার দূরে, হেটে) বিকেল পাচটায় ছুটি। কিন্তু লেবাররা ওভারটাইম করবে তাই আমাকেও থেকে যেতে হবে। যেহেতু কাজটা পছন্দের ছিল তাই এত কষ্ট সহ্য করেও টিকে থাকব ঠিক করেছিলাম। কিন্তু আমার সব চেয়ে খারাপ লাগছিল যে রেগুলার যারা কোম্পানিতে ছিল তাদের মাইনে ছিল ১৫০ টাকা তার সাথে থাকা ও খাওয়া ফ্রি। সাইটে যাওয়া আর আসার জন্য গাড়ী দেওয়া হবে। তা ছাড়াও কোম্পানির অন্য ডাইরেক্টর আমাকে মামার কনেকশন তুলে খোঁটা দেওয়াতে আমি সোজা ২৪ ঘন্টার নোটিশ দিয়ে চাকরী ছেড়ে ফিরে এলাম। মোট হয়ত ১ মাসের মতন চাকরী করেছিলাম। তিনু মামু যদিও আমার বড়মামার সহপাঠী ছিলেন তবুও তার একটু উন্নাসিক ভাব যেটা আমাকে চাকরী দিয়ে দেখাতে চেয়েছিলেন সেটা প্রকাশ পেয়েছিল।
          জুলাই মাসে আমি বাড়ী ফিরে এলাম আর প্রায় সাথে সাথে রেলের থেকে আমার টেস্টের জন্য কল এল। ইন্টারভিউতে কিছু টেকনিকাল প্রশ্ন করা হয়েছিল তার পর আমাকে মেডিকাল টেস্টে পাঠান হল। তখন ভারতীয় রেল তার বৈদ্যুতীকরনের কাজ শুরু করেছে। এর আগে মুম্বাইতে আর মাদ্রাজে ট্রেন বিদ্যুতে চলত। কলকাতায় হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল সবে চালু হয়েছে। প্রথমেই প্রায় ১২০০ কিলমিটার রেল বৈদ্যুতীকরণের কাজ নেওয়া হল। এটা তখন মালগাড়ী চালানর দিকে জোর দিয়ে দুর্গাপুর থেকে গয়া,আর টাটানগর থেকে রাউরকেলা এবং ডাঙ্গোয়াপোসী পর্যন্ত করা শুরু হল। এর সাথে আসানসোল থেকে চক্রধরপুর যোগ করে দেবার কাজ নেওয়া হল। সমস্ত কাজটাই দুর্গাপুর, রউরকেলা কারখানাতে কাঁচা মাল আনা নেওয়ার সুবিধার জন্য করা হচ্ছিল। এখানে বলে রাখি এই বৈদ্যুতীকরণের কাজ এখনও চলছে যাতে সারা ভারতে রেলে খালি বিদ্যুতই ব্যবহার করা হয়। আমাকে পোষ্টিং দেওয়া হল আদ্রাতে। প্রথম বাড়ী থেকে এতটা দূরে চাকরী নিয়ে এলাম। বাড়ী থেকে সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখে রাতে রওয়ানা দিয়েছিলাম। ভাদ্র মাস বলে মা একটু আপত্তি করেছিল। সকালে জইন করে দেখলাম স্টেশনের ধারেই অফিস। থাকার জন্য একটা তিন কামরাওয়ালা খালি কোয়ার্টারে জায়গা দেওয়া হল। আমাকে নিয়ে তখন ওখানে ১০ জন ছেলে হয়ে গেল। আমাদের ডিউটি রেল লাইনের ধারে ধারে কাজ দেখার। সকাল সাড়ে পাচটায় ট্রেন যাবার জন্য, আর ফেরার জন্য ট্রেন এসে পৌছবে সন্ধে সাড়ে সাতটার পরে। কোয়ার্টারে জল আসবে বেলা দশটায় যখন জল ভরার জন্য কেউ থাছে না। তাই আমরা সকালে স্টেশনের জলে দাত মেজে মুখ ধুয়ে চা বিস্কুট খেয়ে কাজে রওয়ানা দিতাম। দুপুরে লাইনের ধারে কোন পুকুরের জলে স্নান করে কিট ব্যাগ থেকে পাউরুটি আর জ্যাম বার করে খাওয়া হত। রাতে ট্রেন থেকে নেমে সোজা এক হোটেলে, যেখানে ভাত-ডাল তরকারী পাওয়া যেত। তাই খেয়ে পরের দিনে জন্য ওয়াটারবটলে জল ভরে সেই কোয়ার্টারে ফেরা। ততক্ষণে শরীর ক্লান্তিতে ভারাক্রান্ত তাই বিছানায় শোয়া মাত্র ঘুম। এই ভাবে চলল প্রায় দেড় মাসের মত। কাজ তখন চলছিল পুরুলিয়ার কাছে। খবর পেলাম ওখানে কোয়ার্টার খালি আছে। এক রবিবার দেখে আমি আমার জিনিষপত্র নিয়ে পুরুলিয়াতে চলে এলাম। আর সকাল পাচটার আগে উঠতে হবে না। খাবার নিজেই বানিয়ে নেবার সময় পাওয়া যাবে। লাইনের ধারে একটা টিলার উপর পাশাপাশি চারটে কোয়ার্টার। পাশেই পুরুলিয়ার রেল কলোনীর জলে সাপ্লাই করার জন্য ট্যাঙ্ক। আমাদের এই চারটে কোয়ার্টার ছাড়া বাকী সব কোয়ার্টারই ছিল নীচে যাতে জলের প্রেশারের জন্য এই টিলাটাকে ব্যবহার করা হয়েছিল। কোয়ার্টারগুলোতে ইলেক্ট্রিক ও জলের কনেকশন নেই। সাথী হিসাবে পেলাম এম পি আব্রাহাম, অসিত কোনার এবং আর কে সিনহাকে। একমাত্র আব্রাহাম ছাড়া বাকীরা আমারই সহকর্মী। আব্রাহামের অফিস ছিল এই কোয়ার্টারের পাশেই। আরও একটা কথা বলে রাখি লাইনে ট্রলী ঠেলার জন্যে পাচজন লোক আমাদের সাথে থাকত। প্রথম প্রথম এদের মধ্যে যে কেউ একজন আমার দুবেলার রান্না করে দিত। পরে অবশ্যি আমার আর আব্রাহামের একসাথে রান্না হত। তাতে দুজনেই সুবিধা ছিল।
পুরুলিয়ার কথা পরের পর্বে লিখছি।

আসুন অঙ্ক শিখি - পর্ব -৫

উপাধার সূত্রের প্রয়োগ

যখন গুণন সংখ্যা উপাধারের নীচে থাকবে।

এর আগে আমি দেখিয়েছিলাম সংখ্যাদুটি যদি উপাধারের উপরে হয়, এবার দেখব যখন দুটি সংখ্যা দুটিই উপাধারের নীচে তখন কি ভাবে অঙ্কটা করবো।
ধরা যাক আমাদের ৩৯৭ কে ৩৪৪ দিয়ে গুন করতে হবে।
এখানে আধার ১০০ ঊপাধার ৪ (দুটি সংখ্যাই ৪০০ থেকে কম)।
৩৯৭ = ৪০০ - ৩  অতএব বিচলন =   - ৩ ৮
৩৪৪ = ৪০০ - ৫৬ অতএব বিচলন =   - ৫৬
অতএব বিচলনের গুনফল = ৩  X ৫৬ = ১৬৮
্যেহেতু সংখ্যা দুটিই উপাধারের চেয়ে কম অতএব আমরা বিচলন বাদ দেব
অর্থাৎ ৩৯৭ - ৫৬ = ৩৪১ বা ৩৪৪ - ৩ = ৩৪১
এই ৩৪১ কে উপাধারের সংখ্যা ৪ দিয়ে গুন করলে আমরা পাই
৩৪১ X  ৪ =  ১৩৬৪ বা ১৩৬৪০০ (আধারে দুটি শূণ্য)
বিচলনের গুনফল যোগ করব 
১৩৬৪০০ + ১৬৮ = ১৩৬৫৬৮
আমাদের গুনফল হল ১৩৬৫৬৮।

আরও একটি উদাহরণ নেওয়া যাক
এবার ৭৯২ কে ৭৩৬ দিয়ে গুন কতে হবে।
এখানে  উপাধার ৮ এবং আধার ১০০
৭৯২ = ৮০০ - ৮ অতএব বিচলন =  - ৮
৭৩৬ = ৮০০ - ৬৪ অতএব বিচলন = - ৬৪
বিচলনের গুনফল = ৬৪ X  ৮  =  ৫১২
এখানে আমরা সংখ্যা থেকে বিচলন বাদ দেব
অর্থাৎ ৭৯২ -৬৪ = ৭২৮ বা ৭৩৬ -৮ =৭২৮
এই ৭২৮ কে আমরা উপাধার ৮ দিয়ে গুন করবো
৭২৮ X  ৮  =     ৫৮০৪ বা ৫৮০৪০০ (আধারে দুটি শূণ্য)
বিচলনের গুনফল যোগ করে আমরা পাই ৫৮০৪০০ + ৫১২ = ৫৮০৯১২/
আমাদের গুনফল হল ৫৮০৯৯১২।

এখানে খেয়াল রাখতে হবে উপাধাত এঊত্র দিয়ে আমরা ১০০০ ের নীচের সংখ্যা সহজে গুন করতে পারি।
ের উপরের সংখ্যা গুন করতে আমাদের অন্য সূত্রের সাহায্য নিতে হবে। সে পাঠ পরে লিখবো
আরও একটা কথা সংখ্যা দুটি হয় উপাধারের উপরে বা উপাধারের নীচে থাকতে হবে। কন উপাধারের উপর আর নীচের সংখ্যা থাকলে তাদের উপাধার বদেল বরে নিতে হবে
উদাহরণ ৫১২ কে ৪২৮ দিয়ে এখান উপাধার ৫ নেওয়ার বদলে ৪ নিয়ে দুটি সংখ্যার বিচলন ধণাত্মক রাখছি নয়ত উপাধার ৬ নিয়ে দুটির বিচলন ঋণাত্মক বাখছি। একটি + এবং আর একটি - রাখলে হবে না।
 

জিজ্ঞাসা ?


                                             আমার প্রশ্ন ?
গানের কথা মনের মাঝে ঘুরে বেড়ায় কেন?
ছোট্ট ছোট্ট পায়ে  আমায় চলতে হবে কেন?
কে আমায় নিশ্চয়তা দেবে যে আমি পৌঁছে যাব?
ঠিকানা জানিনা, রাস্তাও  জানিনা
বাধা বিপদ কি আসবে সেটাও জানিনা
শুধু আমার বিশ্বাস কি আমাকে পৌঁছে দিতে পারবে?
আমাকে কেন এই ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে হবে?
যখন আমি জানব কোথায় যাব? কি করে যাব?
তখন আমার প্রশ্ন হবে কেন যাব? কি হবে গিয়ে?
এইত আমি থাকব ভাল বিছানায় শুয়ে।
তোমরা যদি পার তবে আমাকে বল  -
কোথায় যাব? কি করে যাব? কেন যাব? কি হবে গিয়ে?
তবেই তো আমি বলতে পারব কবে যাব।
তখন এটা জানি আমি নিশ্চয় পৌঁছে যাব।।

বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২

আমার কৈশোর




ওপরের ছবিটা ১৯৪৮ সালে জশিডিতে তোলা। বাবা, মা  আর ছোট বোন। ক্যামেরা বেবী ব্রাউনি এফ ৮ লেন্স। ফিক্সড শাটার স্পীড 
১৯৪৯-৫৪
১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিক পাশ করার পর কলেজে ভর্তি হবার কথা চিন্তা হল। মেট্রপলিটান স্কুল থেকে পাশ করাতে পাশেই বিদ্যাসাগর কলেজে ভর্তি হতে কোন অসুবিধা হলনা। অবশ্যি আজকের মতম ৯০-৯৫% নম্বর পেয়েও কলেজে সিট না পাওয়ার অবস্থা তখন ছিলনা। থার্ড ডিভিসনে পাশ করেও লোকেরা স্বচ্ছন্দে কলেজে দাখিলা পেয়েছে। আমার বরাবরের ইচ্ছে ছিল হয় ডাক্তার নয় ইঞ্জিনিয়ার হব তাই সায়েন্স গ্রুপ নিলাম। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি আর ম্যাথামেটিক্স। মজার কথা আমার হাইট তখন ৪ ফুট ১০ ইঞ্চির নীচে, পরনে হাফ প্যান্ট আর হাফ সার্ট, অতএব গেটের দারোয়ান আমাকে স্কুলের ছাত্র ভেবে ঢুকতে দিতে চায়না। এ অবস্থা যে শুধু আমার হয়েছিল, তা নয় আমার মতন বেশ কিছু ছাত্র ছিল যারা হাফ প্যান্ট পড়ত আর তাদের গোঁফের রেখা ভাল করে ওঠেনি। এখানে বলে রাখা ভাল যে তখন স্কুল কলেজে ইউনিফর্ম চালু হয়নি। যে যার মতন পোশাক পড়ে আসতে পারত।
বাবা তখন রিটায়ার করেছেন। অতএব কলেজের সমস্ত বই কেনা হয়নি। বাবার এক বন্ধু নারায়ণ ব্যানার্জী (আমাদের নারাণ জ্যাঠামশাই) তার পুরনো বইএর ব্যবসা থেকে কিছু বই দিলেন। সেগুলি প্রধানত গ্র্যাজুয়েশন লেভেলের ছিল। তখনকার দিনে সাধারণত ইন্টারমিডিয়েট লেভেলে সিলেবাসের বাইরে থেকে কিছু (তা ঠিক থাকলেও) লিখলে নম্বর পাওয়া যেত না। অতএব আমার জ্ঞান বাড়লেও নম্বর তোলার ভয় ছিল। কেমিস্ট্রি বইএ দেখলাম গান কটন সেলুলোজকে নাইট্রিক আর সালফিউরিক এসিডে ট্রীট করে তৈরী হয়। তাই বাড়ী থেকে সেলুলোজের বদলে তুলো নিয়ে কলেজের ল্যাবরেটরী থেকে ডাইলুট এসিড নিয়ে ডুবিয়ে দিলাম। পিরিয়ড শেষ হওয়াতে সেটাকে তুলে নিয়ে খাতার মধ্যে রেখে চলে এলাম। পড়ে ওটা শুকোলে রাস্তার পানের দোকানে বিড়ি ধরানোর আগুনে জ্বালানোর চেষ্টা করেও সেটা জ্বললও না, মাঝ থেকে আমার খাতায় একটা বিরাট ফুটো হয়ে গেল

নারাণ জ্যাঠামশাইর কাছ থেকে একটা বেবী ব্রাউনিং ক্যামেরা পেয়েছিলাম।তাতে 127 সিরিজের সাদাকালো ফিল্মে ছবি আসতো। সুরু হয়ে গেল আমার ছবি তোলার হবি। অবশ্যি ক্যামেরাটা পেয়েছিলাম স্কুলে পড়ার সময়ই। আর তার প্রথম প্রয়োগ করা হয় ম্যাট্রিক পরীক্ষার আগে দাদার টাইফয়েড থেকে উঠে হাওয়া বদলাতে জসিডি (বাংলা-বিহার বর্ডারের কাছে) গিয়ে। ওখানে তোলা ছবি গুলো খুজে এখানে দেবার ইচ্ছে আছে। ক্যামেরাতে ফ্লাশবাল্বের ব্যবস্থা ছিলনা, তাই ফ্ল্যাশ পাউডার তৈরী করার চেষ্টা হল। ফ্লাশ পাউডারে ম্যাগনেসিয়াম পাউদার লাগে। সেটা বাজারে কিনতে পাওয়া যাবে না তাই বদলে এলুমিনিয়াম পাউডার (রংমশাল তৈরির জন্য পাওয়া যেত) প্রয়োগ করে একটা ডিশে সোরা (পটাশিয়াম নাইট্রেট) আর এলুমিনিয়াম পাউডার মিশিয়ে রাখা হত। ক্যামেরা রেডী করে ঐ পাউডারে আগুন লাগাতেই অনেক আলো পাওয়া যেত, তখন শাটার টিপে ছবি তোলা হত। পড়ে অবশ্যি একটা গেভাবক্স ক্যামেরা কেনা হয়েছিল যাত ফ্লাশ গান লাগানর সুবিধা ছিল। কিন্তু তখন একমাত্র সিলভানিয়া কোম্পানির ফ্লাশ বাল্ব পাওয়া যেত যার দাম ছিল তখনকার দিনে ১২ আনা করে। মানে একটা বাল্বের দামে দু ডজন ডিম কিনতে পারা যেত। কাজেই একমাত্র বাইরে ছবি তুলতে না হলে আমি ফ্লাশ পাউডার ব্যবহার করতাম।

ছবি তোলার সাথে সাথে ফিলাটেলী বা ডাকটিকিট জমানো পুরো দমে চলতে লাগলো। আমার বড়মামার কাছ থেকে তার টিকিট শুদ্ধ এ্যালবাম আমার দখলে এসেছিল তাঁকে বাড়ানোর প্রচেষ্টা ভাল ভাবে শুরু করলাম। বিদেশী টিকিটের জন্য সব চেয়ে সোজা উপায় হল পত্রমৈত্রী বা পেনফ্রেন্ড জোগাড় করা। তখন ইলাস্ট্রেটেড উইকলি তে নানান পেনফ্রেন্ডদের ঠিকানা আর তাদের হবি বা সখের কথা লেখা থাকত। এর থেকে বেছে নিতে হল।
এর মানে এই নয় যে যাকে আমি লিখছি সে আমার সাথে মৈত্রী পাতাবে, সেটা তার ইচ্ছের উপর।

আমার দুটি বন্ধু ছিল। প্রথমটি চেকস্লোভাকিয়ার, মার্শেলা প্রিকরিলোভা, একটি মেয়ে আমার বয়সী, বাড়িতে তার মা ও ঠাকুমা। ওদের ওখানে ভাষা চেক, আর আমার ভাষা বাঙলা। যোগসূত্র হল ইংরাজী। আমি তাও ইংরাজী পড়েছি কাজে চিঠি লিখতে পারি। ওকে দোভাষীর সাহায্য নিতে হত। এই চিঠির আদানপ্রদান চলেছিল '৫০ থেকে '৫৩ সাল পর্যন্ত তার পরে ওরা অন্য সহরে সিফট করাতে আর দোভাষীর সাহায্য পায়নি। শেষ চিঠি ছিল চেক ভাষায় আর তাতে এই কথা জেনেছি। চিঠিটা আমি কলকাতায় বাটা কোম্পানিতে কাজ করতেন এক চেক নাগরিককে দিয়ে অনুবাদ করে নিয়েছিলাম। ইতিমধ্যে আমাদের সম্পর্কটা প্রায় প্রেমের পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

দ্বিতীয় বন্ধুর নাম নুরুল আকবর, ঢাকার ছেলে, অবশ্যি তার বাবা চট্টগ্রামে থেকে কাজ করতেন। আজকে আর তার ঠিকানা ও ছবি খুজে পাচ্ছিনা। আমাদের কলকাতার বাসায় সে এসেছিল। যতদূর জানি তার বাবার সাথে সেও পরে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। '৫৪ সালে আমার কর্মজীবন শুরু হবার পরে এই বন্ধুত্বে ছেদ পড়ে।

ফটোগ্রাফি, ফিলাটেলী আর কমন রুমে টেবল টেনিস খেলা এর অবশ্যম্ভাবী ফল ,৫১ তে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষাতে পাওয়া গেল। ইংরাজীতে পাশ মার্ক আসেনি অতএব কম্পার্টমেন্টাল পরীক্ষা দিতে হবে। আমার তাতে বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই কেননা কম্পার্টমেন্টাল এর রেসাল্ট বেরবে মেন পরীক্ষার ৬ মাস বাদে আর ততদিন আমার জন্য কলেজ কোন বিষয়ে অপেক্ষা করবেনা। কিন্তু ঘরের চাপে না তৈরী হয়ে পরীক্ষা দিলাম আর যথানিয়মে ফেল করলাম। অতএব আগামী সেশনের জন্য অপেক্ষা।

ইতিমধ্যে মামার কাছে খবর পাওয়া গেল বাটা কোম্পানিতে তিন মাসের জন্য ক্লার্ক নেওয়া হবে। মার ছোটমামা কোম্পানিতে পার্সনেল অফিসার অতএব আমার চাকরী হয়ে গেল। পুরো '৫২ সাল চাকরী করার পরে '৫৩ তে আবার কলেজে ভর্তি হলাম। এবার আমাকে দিতে হবে নন-কলেজিয়েট হিসাবে তাই খালি প্র্যাক্টিকাল করতে কলেজে যেতে হত। সেটা ছিল মর্নিং সেশনে যখন আমাদের ক'জন ছাড়া সারা কলেজই মেয়েদের জন্য। কিন্তু মজার কথা যে ইংরাজী এডাল্ট ফিল্ম যেমন পিটন প্লেস, ফর হূম দি বেল টোলস, বা ডুয়েল ইন দা সান দেখার অভ্যেস থাকলেও কলেজের মেয়েদের সাথে কোন রকম কথাবার্তা হত না। সকালে উঠে কলেজ, সেখান থেকে অফিসে, সন্ধে বেলা বাড়ী ফিরে কিছুটা রেস্ট তাঁর পর রাত ৯টার পরে প্র্যাক্টিকাল খাতা তৈরী করা। জানুয়ারী মাস থেকে আর অফিস গেলাম না। দিনে প্রায় ১৮ ঘন্টার মতন পড়তাম। তাঁর ফলও পেলাম। একমাত্র অঙ্ক বাদে অন্য সব বিষয়ে ৮০% মার্ক। বলে রাখা ভাল তখন ৬০% উপরে মার্ক্স পেত খুব অল্প ছেলেরাই। 

ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পরে আমার ইচ্ছে অনুযায়ী ঈঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হওয়া হল না কেননা অর্থাভাব। যাদবপুর, শিবপুরে সীট পেয়ে ছেড়ে দিতে হল। অনার্সে কেমিস্ট্রিতে বিদ্যাসাগর কলেজ বা ফিজিস্কসে প্রেসিডেন্সীতেও পড়া হল না। দাদা তখন কলকাতায় পোর্টে চাকরী করত। সে বাবাকে বলল ওকে পড়তে দাও। এই সময় কলকাতা কর্পোরেশন তাদের ওয়ার্কশপের জন্য বছরে ১০ জন এপ্রেন্টিস নিত যাদের বিনা পয়সারে যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে থিয়োরী পড়ান হত। সপ্তাহে দুদিন থিয়োরী আর বাকী ৪দিন ওয়ার্কশপে প্র্যাক্টিকাল। এর সাথে পাঁচ বছরের কোর্সে প্রত্যেক মাসে ২৫ থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত স্টাইপেন্ড দেওয়া হত। আডমিশন পরীক্ষা দিয়ে আমি সিলেক্ট হলাম। সেই সময় যে এপ্প্রেন্টিস সারা বছরে ফার্ষ্ট এবং ফাইনালেও ফার্ষ্ট হবে সে ইচ্ছে করলে বিদেশে পড়ার জন্য ৭০০০ টাকা গ্র্যান্ট পাবে। মনে রাখতে হবে তখন টাকার দাম অনেক বেশী। সোনার দাম মনে হয় ৫০ টাকা ভরি ছিল। কাজেই এটা একটা লোভনীয় সুযোগ আমার কাছে এবং আমি সেটা নিয়ে নিলাম। পরের কথা আবার কোনদিন।  

কিছু ছবি

দু তিন ধরে বাড়ীর জানালার থেকে সমূদ্রের কিছু ছবি তুলেছিলাম
তার থেকে বাছাই করে কিছু এখানে তুলে দিলাম
কি রকম লাগলো জানাবেন।
   প্রথম ছবি সুর্য্য ডোবার কিছু আগে
                                               সূর্য মেঘের আড়ালে
                                   মেঘের আড়ালে সূর্য তার ছটা দেখাচ্ছে
                                                 ছটার প্রকাশ
                                       মেঘ কাল আধার কাল
শুভমস্তু ভব।

মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২

চল খেলতে যাই




চল খেলতে যাই

আয় সবাই মিলে খেলতে যাই
গড়গড়াগর গাড়ী টেনে খেলতে যাই
সবাই মিলে ধাক্কা লাগা
নয়ত গাড়ি এগোবে না
সন্ধ্যে নেমে আধার হবে
খেলতে যাওয়া হবে না।।
সন্তু তুই পেছনে যা
আদু আর রবি পাশে
দুধার থেকে সামাল দিবি
ঢালান যদি আসে
কি মজা কি মজা গাড়ী নিয়েছে স্টার্ট
দ্যাখ আমার গাড়ী চালানোর কি ফাইন আর্...
ইঞ্জিন নেই এ গাড়ীতে তবুও লোকে চড়ে
ব্রেক নেই, স্টীয়ারিং নেই তবুও গাড়ী নড়ে
সরে দাঁড়া, সরে দাড়া,উঠবে ঘাড়ে চাকা
এ গাড়ির জন্য চাই সারা রাস্তাটা ফাঁকা।।