বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৪

দাদু নাতি সংবাদ

দাদু নাতি সংবাদ
দাদু তোমার নাকি চোখে ছানি কাটা হবে

তারপরেই নাকি তুমি ভাল দেখতে পাবে।

আমি বলি, হ্যাঁরে দাদু, তাইতো ডাক্তার বললেন

কালকে যখন যন্ত্র দিয়ে দুটো চোখই দেখলেন।

আচ্ছা দাদু, ছানিটা এল কোথা থেকে এখন

চোখ কি খুলে রেখেছিলে ঘুমচ্ছিলে যখন

একটুনি ধুলো গেলেই চোখ কড়কড় করে

কাটার মতন ছানি চোখে তোমার এল কি করে?

আমি বলি, আরে নারে, ছানিটা ধুলোবালি নয়

বুড়ো হলে পড়ে এটা নিজের থেকেই হয়।

চোখের ভেতরের দেখার জিনিষটা ঘসে গেছে আমার

ডাক্তারবাবু সেটাকে বদলে দেবেন এবার

তার পরেই দেখতে পাব, তোরা কিসব কি লিখিস


এবার সাবধান থাক, সেটাকে আগেই লুকিয়ে ফেলিস।।

মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৪

কলকাতার রেলপথের ইতিহাস

কলকাতার রেলপথের কথা
 কলকাতার ভাগ্যটাই খারাপ। মুম্বাই থেকে থানের রেলপথ ভারতের প্রথম রেলপথ হবার গর্ব করার সৌভাগ্য পেতে পারতনা যদি দুটি দুর্ঘটনা না ঘটত। প্রথম ইংল্যান্ডের থেকে একটা জাহাজ যাতে রেলের ইঞ্জিন আসছিল সেটা রাস্তা হারিয়ে অষ্ট্রেলিয়ার পশিম উপকুলে গিয়ে হাজির হল আর দ্বিতীয়টা যাত্রী বগী নিয়ে গঙ্গার মোহনাতে ডুবে গেল। আবার সব কিছু নতুন করে সাজানর জন্য যে সময় লেগেছিল তার সুযোগ চলে গেল মুম্বাইএর ভাগ্যে।
১৮৫৩ সালে মুম্বাই তার প্রথম রেল গাড়ি চালাল আর তার ১ বছর পরেই কলকাতা থেকে রেল যাত্রা শুরু হল। প্রথম ট্রেন চলল হাওড়া থেকে হুগলীর মধ্যে, তারিখ ছিল ১৮৫৪ সালের আগষ্ট মাসের ১৫ই। ভাগ্য আমাদের কি রকম, এর ঠিক তিরানব্বই বছর পরে ভারত তার স্বাধীনতা দিবস পালন করল।। হাওড়া তখন এক গ্রাম মাত্র। এক মাটীর তৈরি ষ্টেশন ঘর থেকে একটি ট্রেন সিঙ্গল লাইন ধরে যাত্রা সুরু করেছিল। লাইন পাতা হচ্ছিল প্রথমে রাজমহল পর্যন্ত। এর আগের ইতিহাস আমরা একটু ঘেটে নিই।
রাজ মহলের প্রয়োজন কেন হল। গঙ্গার ধারে এই শহরের উপরে নীল চাষের জন্য বিখ্যাত নীল-কুঠি তৈরী হয়েছিল ১৭৯৬ সালে , আর সিপাহী বিদ্রহের সময় গঙ্গার পশ্চিম পাড়ের এই শহরটির গুরুত্ব অনেক বেশি ছিল। নদী আর পাহাড়ের মাঝে থাকার জন্য আর সাথে গঙ্গার নাব্যতা থাকার জন্য বৃটিশদের একটা মূল ঘাটি এখানে হয়েছিল।
১৮৫১ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়ান রেলয়ের চীফ ইঞ্জিনিয়ার হাওড়া ষ্টেশনের জন্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু দেখা যায় যে ষ্টেসনের জন্য পর্যাপ্ত জমির বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয়ে উঠছে না,। এদিকে লাইনের জন্য জরীপের কাজ শুরু করা হয়ে গেছে। গঙ্গার উপরে সেতু তৈরির অসুবিধার কথা ভেবে ঠিক হয় আপাতত লাইন পাতার কাজ শুরু হবে হাওড়া থেকে রাণিগঞ্জ পর্যন্ত। বালী খাল, শ্রীরামপুর অঞ্চল তখন ঘন জঙ্গলে ভরা। জরীপের জন্য তাল গাছের মাথায় বাঁশ বেঁধে জরিপের ভাষায় লাইন অফ সাইট নিয়ে লাইন পাতার রাস্তা পরিস্কার পাবার বন্দোবস্ত করতে হল।
লাইন পাতার কাজ তো শুরু হল কিন্তু তখন ভারতে লোহার কারখানা ছিলনা তাই রেললাইন, ব্রিজের জন্য লোহালক্কড় ইত্যাদি সমস্ত কিছুই ইংল্যান্ড থেকে আমদানী করা হল। এমন কি যদিও নেপাল থেকে শাল কাঠ, স্লিপারের জন্য পাওয়া যাচ্ছিল তবুও আমেরিকা থেকে ফার গাছের কাঠ ইংল্যান্ডে আনিয়ে তাতে ক্রিওজোট মাখিয়ে ভারতে পাঠান হতে লাগল। একথা আমরা মনে তাখতে পারি যে সুয়েজ খাল তখন তৈরী হয় নি কাজেই জাহাজকে আফ্রিকা ঘুরে আসতে হত। প্রায় ১৪০০০০ টন লোহার রেল ইত্যাদি এই জন্য ভারতে আনতে হয়েছিল।
১৫ আগষ্ট ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলী পর্যন্ত প্রথম ট্রেন চলল। ৩০০০ লোকে প্রথম ট্রেনে চড়বার জন্য দরখাস্ত দেন কিন্তু প্রত্যেকের ভাগ্য সহায় ছিল না।তিনটি প্রথম শ্রেণি, দুটি দ্বিতীয় শ্রেনী আর তিনটে মাল গাড়ীর ফ্ল্যাট তৃতীয় শ্রেণী হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।তাও সমস্ত লোকে টিকিট পায় নি। হিসাবে দেখা যায় যে প্রথম তিন মাসে কোম্পানীর মোট ৬৮০০ পাউন্ড রোজগার হয়েছিল আর প্রায় ১ লাখ ১০ হাজারের মত যাত্রী পরিবহন করা হয়েছিল।
ধীরে ধীরে রলে লাইনের বিস্তার হতে লাগল। ১৫ দিনের মধ্যে ট্রেন পান্ডুয়া পর্যন্ত যেতে শুরু করল। ৬ মাসের মধ্যে লাইনের বিস্তার বর্ধমান পর্যন্ত হয়ে গেল আর প্রাথমিক লক্ষ রাজমহল পর্যন্ত লাইন চলে গেল পরে চার বছরের মধ্যেই। ১৮৬০ সালের জুলাই মাসে প্রথম রাজমহল পর্যন্ত ট্রেন চালান হল। লাইনটাকে ক্রমশঃ বাড়িয়ে দিল্লী পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা এর মধেই হয়ে গেছিল । ৬২ সালে মধ্যে লাইন কাশী পৌঁছে গেল।।

১৮৬৩র ৫ ফেব্রুয়ারি হাওড়া থেকে লর্ড এলগিন আর চীফ ইঞ্জিনিয়ার টার্নবুল কে নিয়ে বিশেষ ট্রেন বেনারস রওয়ানা হল। প্রথম রাত জামালপুরে কাটিয়ে পরের দিন বেনারস তারা পৌছলেন। ১৮৬৬ তে দিল্লী পর্যন্ত লাইন চলে গেল। ইতিমধ্যে ১৮৬৭ সালে এলাহাবাদ থেকে জব্বলপুর পর্যন্ত লাইন হওয়াতে মুম্বাই আর কলকাতা এলাহাবাদ হয়ে যুক্ত হয় গেল। জুলে ভার্ণের ৮০ দিনে পৃথিবী প্রদক্ষিন লেখা তার আগেই হয়েছে। ১৮৭৯ সালে বৃটিশ সরকার ইষ্ট ইন্ডিয়ান রেলয়ে কিনে নিয়ে আবার কোম্পানীকেই লীজে কাজ চালানর জন্য দেন।

এদিকে ১৮৫৩ সালে মুম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত ট্রেন চলার পরে লাইন ধীরে ধীরে আগে এগোতে সুরু করল। ভূসয়াল থেকে একটা লাইন নাগপুরের দিকে আর একটা জব্বলপুরের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে দিল। ঈষ্ট ইন্ডিয়ান রেলয়ে এলাহাবাদথেকে জব্বলপুরের লাইন সংযোগ করাতে মুম্বাই আর কলকাতা ট্রেন  চলাচলে যুক্ত হয়ে গেল।

ইতিমধ্যে ১৮৭৮ সালের দুর্ভিক্ষে সস্তা শ্রমিক পাবার কল্যানে নাগপুর থেকে রাজনন্দগাঁও পর্যন্ত নাগপুর  ছত্তিশগড় রেলয়ে ১৮৮২ সালের মধ্যে মিটার গেজে ট্রেন চালাতে শুরু করল।

নাগপুর ছত্তিশগড় রেলয়ে ছিল গ্রেট ইন্ডিয়ান রেলয়ের মালিকানায়। ১৮৮৭ সালে বেঙ্গল নাগপুর রেলয়ে তৈরী হয় এবং তারা এই নাগপুর ছত্তিশগড় রেলয়ে কিনে নিয়ে তাকে ব্রড গেজে রূপান্তরিত করেন।

বেঙ্গল নাগপুর রেলয়ের মুল লক্ষ ছিল লাইনটাকে বাড়িয়ে বিলাসপুর হয়ে আসানসোল পর্যন্ত নিয়ে যাবার যাতে, কলকাতা আর মুম্বাইএর মধ্যে একটা কম দূরত্বের লাইন পাওয়া যায়। এই উদ্দেশে কাজ এগোতে লাগল আর ১৮৯১ সালের মধ্যে প্রথম মালগাড়ি আসানসোল থেকে নাগপুর পর্যন্ত চলা সুরু করল। ১৯০০ সালে বেঙ্গল নাগপুর রেলয়ে হাওড়াতে এসে যুক্ত হল। পরের বছর মহানদির উপরে ব্রিজ তৈরী হয়ে যাবার পরে হাওড়া মাদ্রাজ রেল যোগাযোগ সম্পুর্ন হল।

এতদিন ধরে হাওড়া ষ্টেশনের উপর যাত্রীর সংখ্যা যা ছিল,  বেঙ্গল নাগপুর রেলয়ে তাদের ট্রেন চালান শুরু করার পরে তার অনেক বৃদ্ধি পেল। কাজে কাজেই  ভবিষ্যতের কথা  চিন্তা করে ভাবা হল এক নতুন ষ্টেশনে তৈরির কথা।

১৯০১ সালে লন্ডনের আর্কিটেক্ট হ্যালসী রিকার্ডো কে ভার দেওয়া হল হাওড়া ষ্টেশনের নক্সা বানাতে।  সেই অনুযায়ী কাজ শুরে হয়ে ১৯০৫ সালের ১ ডিসেম্বর নতুন হাওড়া ষ্টেশনের  উদ্বোধন হল , যদিও ১৯১১ পর্যন্ত ষ্টেশনের কাজ হয়েছে।, পৃথিবীর যে কোন তৎকালীন ষ্টেশনের সাথে তাল রেখে এই ডিজাইন, আজও কলকাতার যাত্রী পরিবহন করে যাচ্ছে। তখনকার দিনে এই হাওড়া ষ্টেশন তৈরি করতে প্রায় পৌনে  লাখ টাকার মতন খরচ হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৪

২০১৪ এর প্রথম পোষ্ট

কলিকাতার ইতিহাস
কলকাতার ইতিহাস
কলকাতা বলতে আমরা আজকে যে মহানগরীকে বুঝি তার ইতিহাস খুজতে যাওয়া বেশ কঠিন ব্যপার। সব শহরের কেউ না কেউ প্রতিস্থাপনা করেন ,কিছু ইতিহাসবিদ এখনও মানেন যে জব চার্ণক এই শহরের প্রতিস্থাপক। যদিও কলকাতার হাইকোর্ট তার বিচারে রায় দিয়েছেন যে কলকাতার কোন প্রতিষ্ঠাতা নেই এ স্বয়ম্ভূ। আমরা দেখি যে কলকাতার অবস্থান যে জায়গাতে সেখানে আগে তিনটি প্রাচীন গ্রাম ছিল। তারা হচ্ছে যথাক্রমে সুতানুটী; কলিকাতা আর গোবিন্দপুর। সুতানূটী ছিল এখনকার বাগবাজার থেকে প্রায় ক্লাইভ ষ্ট্রীট  গঙ্গার ধারের এলাকা মানে উত্তর কলকাতা। আর গোবিন্দপুর ছিল বর্তমান খিদিরপুর থেকে দক্ষিনে বিস্তীর্ন জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা।এই কারণে বাংলায় দূর দূরান্ত বোঝাতে এখনও ধ্যার ধেড়ে গোবিন্দপুর বলা হয়। মাঝে ছিল কলিকাতা গ্রাম। কিন্তু পঞ্চদশ শতাব্দিতে বিপ্রদাসের লেখা মনসা মঙ্গলে সপ্তগ্রাম থেকে দক্ষিণে যাত্রা করে  গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে বেতড়ের উল্লেখ আছে। বেতড়ের আগেই  উল্লেখ হচ্ছে গঙ্গার পূর্ব পাড়ে, চীৎপুর এবং কলিকাতার। এতে সুতানুটী বা গোবিন্দপুরের কোন উল্লেখ নেই। কালীঘাটের নাম মাত্র উল্লেখ আছে।
সমূদ্র থেকে যে সব পর্তুগীজ জাহাজ আসত সে গুলো আদি গঙ্গা (টালির নালা) ধরে এসে গঙ্গাতে নোঙ্গর করত। এই জায়গাটা হচ্ছে বর্তমান বি এন আর অঞ্চল।মালপত্র ছোট নৌকাতে করে গঙ্গা নদী দিয়ে বর্তমান পথে ধরে হুগলী বন্দর পর্যন্ত যেত। পর্তুগীজেরা ১৫৮০ সালে হুগলী তে তাদের বন্দর বানিয়ে নেয়।কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে সপ্তগ্রামের ব্যবসায়ীদের অন্য বাজারে ব্যবসা করতে বাধ্য করা হলে তাদের বেশ কিছু অংশ হুগলীতে এসে যান। কিন্তু মুকুন্দরাম শেঠ এবং বসাকদের চারজন দেখেন যে বেতড়ে ব্যবসার সুযোগ অনেক বেশী।একে তো সেখানে আগে থাকতেই বাজারের বন্দোবস্ত ছিল তাই তারা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বেতড়ে এসে ব্যবসা করা ঠিক করে বেতড়ের উলটোদিকে গঙ্গার পুর্ব পাড়ে গোবিন্দপুর গ্রামের স্থাপনা করে নেন। গ্রামের উত্তর দিকে রইল  ধী কলিকাতা (অর্থাৎ গ্রাম কলিকাতা) যেখানে কিছুদিন পরেই সুতানুটি হাট গড়ে ওঠে।এই সুতানুটী হাটে কাপড়ের ব্যবসা খুব প্রসিদ্ধ হয়। ১৫৯৬ সালে আকবরের মন্ত্রী আবুল ফজলের বইতে এই সুতানুটি গ্রাম সাতগা বা সপ্তগ্রামের অধীনে একটি জেলা বলে দেখান হয়েছিল।
ঈষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জব চার্ণক তার কাজের সময়  মনে করেন যে তাদের মূল বাণিজ্যের জায়গা এই সুতানুটিতেই হতে পারে। মাদ্রাজে তাদের সদরে নানান লেখালেখির পরে তাকে বলা হয় ঠিক আছে, সুতানুটিতেই ইংরেজদের মূখ্য ব্যবসাকেন্দ্র হোক। কেননা চট্টগ্রামে মগদের জন্য ওখান থেকে ইংরেজরা সরে আসতে চাইছিলেন। ১৬৯০ সালের আগষ্ট মাসে জব চার্ণক এই সুতানুটিতে এসে কোম্পানির কেন্দ্র বসালেন। সুতানুটির সব চেয়ে সুবিধা ছিল পশ্চিমে গঙ্গা নদী, দক্ষিণ আর পুর্ব দিকে বাদা বা জলা জমি (সল্ট লেক অঞ্চল) , কাজেই একমাত্র উত্তর দিক থেকেই আক্রমণের সম্ভাবনা , কাজেই সে দিক রক্ষা করার ব্যবস্থা করলেই হবে। । 
এই তিনটি গ্রাম ছিল বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের  জমিদারী দেখাশুনাতে মুঘল সম্রাটের খাস মহল এলাকা হিসাবে। ১৬৯৮ সালে  ইংরেজ্রা সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের কাছ থেকে জমিদারীর অধিকার কিনে নেন। আর ১৭৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ বা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত রীতিমত মুঘলদের খাজনা দিতেন।
রুডিয়ার্ড কিপলিং কলকাতার উপরে একটা কবিতা লিখেছিলেন তার অনুবাদ (আমার অক্ষম প্রচেষ্টা) দিচ্ছি

খেতে এখানে বসেছিলেন জব চার্ণক দুপুরের খাবার
আর কি দুর্ভাগ্য সেটাই হয়ে গেল এই শহর আমার
পাউরুটিএর গায়ে ছাতার মতন বেড়ে উঠেছে এদিক-ওদিকে
কিছুটা হিসাব মতন আর কিছুটা নিজের খেয়ালের তাগিদে
নাবাল কাদা ভরা বাদা জমির উপর তৈরী হল প্রাসাদ বস্তি আর বাগান
পাশাপাশি  এসে গেল সুখ আর দুঃখ, ঘৃণা আর অভিমান
হায়

কিন্তু তাদের উপরে রইল মৃত্যুর করাল ছায়।

সকল পাঠকদের আমার নতুন বছরের শুভেচ্ছা রইল।

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

প্রেমের জন্য


আজকে সকালে কিম্বা কাল বিকালে
যেটাই হোক না কেন, কোন একটা কালে
একথাটা মনে হয়েছিল আমার
প্রেম প্রেম ভাব জাগছে মনে এবার।

খুজতে লাগলাম পেন্সিল আর খাতা
লিখতে হবে আমাকে প্রেমের কবিতা
কেননা সবাই বলে প্রেম এলে পরে
কবিতা লিখবে তুমি হিসাবের খাতা ভরে।

পরামর্শ নিতে গেলাম বিশুর দাদার কাছে একবার
প্রেমে সে গোঁত্তা খেয়েছে কম করে বিশ বার।

বললেন এসে বিশুর দাদা শম্ভূ গোঁসাই
আমার কথাটা মন দিয়ে শোন রে ভাই
এরকম কবিতা লিখলে পরে
প্রেম যে তোর যাবে রে উড়ে।

কবিতা টবিতা কিসসু চাইনা
গান গাইতে তুই জানিস কিনা
চুলগুলোতে লাগবি না তেল
দেখাতে হবে তোকে পারফেক্ট আঁতেল
জোগাড় করে নে একটা খঞ্জনী
শুরু করে দে গানটা এখনই
আমার সাধ না মিটিল
সময় ফুরাইল
দেখতে পাবি তোর গানের পরে
প্রেমিকারা আসছে লাইন ধরে।

খুজছি এখন খঞ্জনী, কেউ কি দেবে ধার
ট্রাই করে দেখি আমার লাক, অন্তত একবার।।



বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৩

মুক্তপদ্যের সংজ্ঞা


ছন্দ মিলিয়ে কবিতা লেখা মোটেই শক্ত নয়
বরং গদ্যে একটা গল্প লেখা কঠিন মনে হয়।
বানান দেখ, গুরুচন্ডালী দোষ দেখ
এসব মেনে কি লিখবে, তাও মনে রেখ।
কবিতাতে এসবের জন্য কোন চিন্তা নাই
যা খুসী তাই লিখে ফেললে, হাততালি পাবে ভাই।
বুঝতে পারলে সেটা তোমার অতিসাধারণ লেখা হবে
আর কেউ না বুঝলে সেটা অসাধারন মুক্তপদ্য হবে।
মুক্তপদ্য, সেটা কি জিনিষ, শোন নিকো আগে
পদ্য তো কবিরা লিখত বহু বছর আগে
শব্দ গুনে, মিল রেখে, ব্যকরণ মেনে লেখা
এসব বাধানিষেধে পড়ছে মনের ভাবটা রোখা
আমার মত আনাড়ী কবিরা এখন ছন্দ মিলিয়ে লেখে
মুক্তপদ্য এখন শিখছি আমি, অন্যের দেখে দেখে
মাষ্টারমশাই বলেছেন, কাল থেকে রোজ
একটা মুক্তপদ্যের স্যাম্পল, দিতে হবে ডোজ
পাঠকেরা এবার নিজে বাঁচে কি আমাকে বাঁচায় সেটা তাদের ভার
ওয়ার্নিং দিয়ে দিয়েছি, কাজটা শেষ আমার।।

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৩

ভ্রমণের প্রোগ্রাম


ক;দিন আগে হঠাত কিছু নগদ এসেছিল হাতে
গিন্নী বললেন, হ্যাঁগা, চলনা যাই কোথাও বেড়াতে
ছেলেমেয়েরা হয়েছে বড়
সব সময় থাকি জড়সড়
বাইরে গেলে তোমায় পাব আগের দিনের মত
যখন দুজনে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে যাওয়া হত।

একি শুনি, পঞ্চাশোর্দ্ধ বৃদ্ধার মুখে অষ্টাদশীর কথা
মানতেই হবে, নয়তো পাবে মনে ভীষণ ব্যাথা।
বসে গেলাম খাতা কলম নিয়ে, কোথায় যাওয়া হবে
কি ভাবে যাব, আর কদিনের ট্যুর প্রোগ্রাম হবে।

গিন্নী বলেন চলনা যাই, আগে দেখিনি কখনো কাশ্মীর
আমি বলি ওরে বাবা, ওখানে আতঙ্কবাদীর ভীড়
তার চেয়ে যাইনা কেন চন্ডীগড় হয়ে শিমলা
কুফরীতে বরফের উপর ভাল করে যাবে খেলা।
গিন্নী বলেন, অসম্ভব, বরফের উপর মোটেই নয়
জাননা কি অল্প ঠান্ডাতেই তোমার ভীষণ কাশি হয়।
তার চেয়ে যাই সমূদ্রের ধারে, কাছেই আছে বকখালি
আমি বলি বাজে জায়গা, কিছু নেই খালি কাদা আর বালি।

সমূদ্র দেখতে হলে
 আবার যাই পূরী চলে
সাগর ধারে হাঁটতে পাবে
জগন্নাথ দেবের প্রসাদ পাবে
দুবেলা মাছভাত খাবে
আর কি চাই, টিকিট কাটি তবে?

গিন্নী বললেন খবরদার
মনে নেই কি হয়েছিল গতবার
ভাগ্যে কাছেই ছিল নুলিয়া ভাই
আমার শাঁখাসিঁদুরের রক্ষা তাই।
ক্ষেপে গিয়ে বলি যেওনা তুমি, আমি একাই যাব
 অন্য কাউকে না হয় সঙ্গে নেব
গিন্নী বললেন, সখ যে দেখছি খুব বেশী
ফোকলা মুখে ফুটছে হাসি.

ও সব কথা ছাড়, চলনা দুজনেই যাই কাশী
গঙ্গার ধারে বসে থাকব দুজনেতে পাশাপাশি
থাকার ব্যবস্থা ঠিকঠাক হলে
তোমার পেন্সনের টাকায় পোষালে
তোমায় আবার একা পেলে
আর কি ফিরে আসি?


রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

নতুন বাংলা অভিধান


 
গতকাল রাতে, কি এল মাথাতে
বসে গেলাম পড়াতে বাংলা, ছোট ছেলেটাকে
অজ আম শেষ করেছে
যুক্তাক্ষর চালু হয়েছে
গণ্ডগোল বেঁধে গেল এখানটাতে।

বাগাড়ম্বর শব্দ এল
মানেটা বোঝাতে হল
বললাম মানে হল বেশী কথা বলা,
ছেলে বলে মোটেই নয়
মানেটা তো শব্দের ভেতরেই হয়
তাহলে কি ভাবে হল বেশি কথা বলা।

বিশুকাকু বাংলায়
গুগলে লেখা দ্যায়
সে তো বলে দিল অন্য মানে,
কে যে ঠিক
আর কে যে ভুল
সেটা কেউ কোথাও কি জানে?
আমি বলি ব্যাটা
হয়েছিস ঢ্যাটা
পেয়েছিস কি মানে সেটা বল ?
ছেলে বলে ওটা হবে
বাঘের লোম ছিড়ে বানান কম্বল।
আমি শুনে হতবাক
বাঘের লোম কোথায় পেল আগে বোঝাক।

ছেলে বলে শব্দটাকে ভেঙ্গে দাও
দেখ তুমি কি কি পাও,
পেয়েছ কি বাঘা +রোম +বর,
বাঘা মানে বাঘ
রোম মানে লোম
আর আবরণের বর।
এইবার তুমি বল
হলনা কি বাঘের লোমের কম্বল।

ভাবছি এখন কে হবে মোর গুরু

বিশু না আমার ছেলে, কোথা থেকে করি শুরু।।